
সারাদেশে শিশু রামিসা হত্যার বিচার এবং চট্টগ্রামে ৩ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় যখন তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ চলছে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার বর্বরোচিত অভিযোগ উঠেছে। এসব পৈশাচিক ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এক বৃদ্ধসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আজ রোববার (২৪ মে) সকালের মধ্যে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফতুল্লা এলাকায়। ভুক্তভোগী ৫ বছর বয়সী ওই শিশুটির বাবা-মা দুজনেই পেশায় পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) শ্রমিক।
ঘটনার বিবরণ: সকালে মা-বাবা কর্মস্থলে চলে গেলে বাসা একা পেয়ে মোবাইলে চার্জ দেওয়ার ওজুহাতে ঘরে ঢোকে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আনোয়ার (৪৮)। এরপর সে শিশুটিকে অবশ করে ধর্ষণ করে।
গ্রেপ্তার: রাত ৮টার দিকে মা বাসায় ফিরলে শিশুটি কান্নাকাটি করে বিষয়টি জানায়। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় লম্পট আনোয়ারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার সকালে একই এলাকায় ১১ বছর বয়সী অপর এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় নাজির হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাজির ওই শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তবে সাহসী শিশুটি আত্মরক্ষার্থে লম্পট নাজিরের শরীরে সজোরে কামড় দিয়ে তার হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা নাজির হোসেনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
সবশেষ ঘটনাটি ঘটে আজ রোববার সকালে। মাত্র ৬ বছর বয়সী এক শিশু স্থানীয় একটি দোকানে সওদা করতে গেলে তাকে চকলেট বা অন্য কিছুর লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে জহির শেখ (৭৮) নামের এক লম্পট বৃদ্ধ। শিশুটি ভয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাতেনাতে জহির শেখকে আটক করে পুলিশের খাঁচায় পুরে দেয়।
নারায়ণগঞ্জে একের পর এক এই পাশবিকতার বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন:
“তীব্র বিচারহীনতা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম চরম রূপের কারণেই একের পর এক এই ধর্ষণের ঘটনাগুলি বেড়ে চলেছে। বর্তমানে রামিসা হত্যা নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি হওয়াতে ছোট ছোট ঘটনাগুলোও এখন দ্রুত গণমাধ্যমে চলে আসছে বলে আমাদের কাছে সংখ্যা হঠাৎ বেশি মনে হচ্ছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটিই আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের জঘন্য বাস্তব চিত্র।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম ‘মাটি ও জনতার কথা’-কে নিশ্চিত করেছেন যে, অপরাধের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে গেছে। তিনি বলেন:
প্রথম ঘটনায় নির্যাতিত ৫ বছরের শিশুটিকে ডাক্তারী ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
বাকি দুটি ঘটনাতেও ভুক্তভোগী শিশুদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে।
৭৮ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ৪৮ বছরের প্রৌঢ়—আমাদের সমাজের পুরুষদের এই বিকৃত মানসিকতা প্রমাণ করে কোনো শিশুই আজ নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কর্মজীবী পোশাক শ্রমিকদের সন্তানদের নিরাপত্তা দিতে প্রতিটি শিল্প এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার এবং পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।