
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জন শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের লাশ স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ যৌথভাবে লাশগুলো হস্তান্তর করে।
এ সময় প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে ও লাশ বুঝে নিতে হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজন ও সহকর্মীদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ জনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ জন এবং রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও নাটোরে ১ জন করে রয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা সবাই শ্রমজীবী মানুষ, যাঁরা জীবিকার তাগিদে ট্রাকে করে রডের ওপর চড়ে যাচ্ছিলেন। নিচে তাঁদের নাম ও পরিচয় দেওয়া হলো:
নওগাঁ জেলার ১০ জন:
মো. সাগর মিয়া (২০), পিতা- সাকিম মিয়া (মান্দা উপজেলা)
রবিউল ইসলাম (২৫), পিতা- শহিদুল ইসলাম (মান্দা উপজেলা)
মো. বারিক (২১), পিতা- আব্দুর রশিদ (মান্দা উপজেলা)
বাদশা (৩২), পিতা- আব্দুর রহিম (মান্দা উপজেলা)
গিয়াস (২০), পিতা- রশিদ (পাকুরিযা গ্রাম)
মাইনুল (২৮), পিতা- রশিদ (পাকুরিযা গ্রাম)
ইয়াকুব (২০), পিতা- একাব্বর আলী (রাজেন্দ্রবাটি এলাকা)
তারেক (২০), পিতা- সুলতান (রাজেন্দ্রবাটি এলাকা)
মাইনুল (৩৫), পিতা- জাফর (হোসেনপুর এলাকা)
সুজন (৩৫) (রামগ্রা এলাকা)
অন্যান্য জেলার ৫ জন: 11. ইসমাইল হোসেন (১৯), পিতা- আলতাফ হোসেন (তানোর উপজেলা, রাজশাহী) 12. নজরুল (৬০) (শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) 13. মামুন (৪৫) (সদর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) 14. হাসান আলী, পিতা- হবিবুর প্রামাণিক (দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া) 15. মোহাম্মদ আলম মোল্লা, পিতা- ইব্রাহীম (নাটোর)
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান জানান, নিহত সকলের সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই ঘাতক ট্রাকের চালক এবং হেলপার গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। এই বর্বরোচিত অবহেলার কারণে ১৫ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত ‘মাটি ও জনতার কথা’-কে জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৫ জনের মরদেহ অত্যন্ত নিরাপদে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় পরিবহন খরচ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ট্রাকে বা খোলা যানে যাত্রী পরিবহন করা সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও মহাসড়কে প্রশাসনের চোখের সামনেই রড বা সিমেন্টের ওপর চড়ে দূর-দূরান্তে যাচ্ছেন শত শত অতিদরিদ্র দিনমজুর। এর আগে গত সপ্তাহেও নৌপুলিশ ১৭ জনের লাশ উদ্ধারের খতিয়ান দিয়েছিল, আর এবার সড়কে ঝরল ১৫ প্রাণ। ঈদযাত্রার মুখে এই ধরনের ফিটনেসবিহীন ও অনিরাপদ যাতায়াত বন্ধে হাইওয়ে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে।