প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং
ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার: ঘাতক ছেলে পলাতক

পারিবারিক কলহের জেরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুন করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার গা শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের দুদিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই বৃদ্ধার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে নিহতের বড় ছেলে পলাতক রয়েছেন।
গত বুধবার (৩ জুন) রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে ও পেশায় ভ্যানচালক জুয়েল ইসলামকে (৪০) প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে পরিবার।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মারুফা বেগম তাঁর বড় ছেলে জুয়েল, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তাঁর ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান লাবিন। এরপর গত বুধবার বিকেলে নিজের বাড়িতে ফিরে মা, বড় ভাই, ভাবি ও ভাতিজা—কাউকেই খুঁজে না পেয়ে তিনি বিস্মিত হন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে বড় ভাই জুয়েলের শোবার ঘরে ঢুকে মেঝের একাংশে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে লাবিনের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর সন্দেহভাজন ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় লাশের মাথার বাম পাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে অন্তত দুদিন আগে মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে লাশটি ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোমবারের পর থেকে মারুফা বেগম এবং তাঁর বড় ছেলে জুয়েল ইসলামকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগে শাশুড়ি মারুফা বেগমের সাথে তাঁর পুত্রবধূর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরপর অভিমান করে পুত্রবধূ সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বড় ভাই জুয়েলকে সন্দেহ করা হলেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩২) ও তাঁর ১৫ বছরের কিশোর ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
যে সন্তানকে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে বড় করেছেন, সেই সন্তানের ঘরের মেঝেতেই মায়ের লাশ পুঁতে রাখার মতো ঘটনা চরম নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ। পারিবারিক ছোটখাটো বিরোধ কীভাবে এমন নৃশংস রূপ নিতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ে পলাতক জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
© মাটি ও জনতার কথা