
বাংলাদেশকে একদিন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের ক্ষুদে ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা মেসি, রোনালদো কিংবা এমবাপ্পের মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড় এ দেশের শিশুদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে রাজধানী ঢাকার বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা)’ চূড়ান্ত পর্বের খেলা উপভোগ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ বিকেলে ফাইনাল খেলা সরাসরি উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠে প্রবেশের পর তিনি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ফাইনালে ওঠা বালক ও বালিকা দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হতে মাঠ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন হাত নেড়ে গ্যালারিতে বসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখনই স্টেডিয়ামে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন দৃশ্য। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ক্ষুদে শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে একদম কাছ থেকে দেখার লোভে মেতে ওঠে এক অনাবিল আনন্দ-দৌড়ে! গ্যালারির নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কঠোর প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে এক নিমেষেই মাঠের দিকে দৌড় দেয় একঝাঁক শিশু। প্রটোকল ভাঙার এই আকস্মিক মুহূর্তে নিরাপত্তারক্ষীরা কিছুটা চমকে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে ছিল কেবলই চওড়া ও স্নেহমাখা হাসি।
উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চাসহ সব বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হলেই আমরা একটি সুন্দর ও স্ট্রং (শক্তিশালী) বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারব।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: "আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার সঠিক ও আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।"
ফুটবলে বিশ্বজয়: "শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও যেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সবাই এক নামে চেনে, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার।"
অলিম্পিক লক্ষ্যমাত্রা: শিশুরা ও তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ অলিম্পিক গেমসেও বাংলাদেশের আরও ভালো অবস্থান তৈরি করার তাগিদ দেন।
সারাদেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা এই মেগা ফাইনালের মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। মাঠে গড়ানো দুটি ফাইনাল ম্যাচই ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা:
🥇 বালক বিভাগ: ফাইনালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে জমজমাট এক জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা।
🥇 বালিকা বিভাগ: অন্যদিকে, বালিকাদের ফাইনালের গোল উৎসবের ম্যাচে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে দেশসেরা চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়ার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্যারা।
চূড়ান্ত পর্বের এই জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। ৬৫ হাজার স্কুলের লাখো শিশুর মধ্য থেকে উঠে আসা এই খুদে ফুটবলাররাই বাংলাদেশের ফুটবলের আসল প্রাণ। তৃণমূলের এই টুর্নামেন্ট থেকে যেভাবে প্রতিভার স্ফুরণ ঘটছে, তা ধরে রাখতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন একদিন সত্যি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে গ্যালারির প্রটোকল ভেঙে শিশুদের সেই স্বতঃস্ফূর্ত ‘আনন্দ-দৌড়’ এবং প্রধানমন্ত্রীর স্নেহময় হাসি আজ বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে যে মানবিক ও সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি করল, তা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।