
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের এই কম্পনের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
সময়: রাত ঠিক ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে。ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল মাত্র কয়েক সেকেন্ড হলেও বহুতল ভবনে থাকা নগরবাসীরা বেশ ভালোভাবেই কম্পনটি অনুভব করেন। ভূমিকম্পের ঠিক পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনদের স্ট্যাটাসের বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই নিজেদের ঘরে থাকা ফ্যান, খাট বা আসবাবপত্র কেঁপে ওঠার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। হঠাৎ রাতের এই ঝাকুনিতে অনেক আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত ভবন ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।
রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পকে সাধারণত মৃদু বা হালকা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বড় ধরনের কোনো ক্ষতিসাধন করে না। তবে চিন্তার বিষয় হলো, এবারের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার একেবারেই কাছে—নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ঢাকা ও এর আশপাশের ভূতাত্ত্বিক ফল্টগুলো যে সক্রিয় রয়েছে, এই মৃদু কম্পন মূলত তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যেভাবে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে, তাতে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় বিপর্যয় এড়াতে এখন থেকেই ভূমিকম্প সহনশীল (Earthquake Resistant) ভবন নির্মাণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।