
চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। ঢাকাই সিনেমার অত্যন্ত সুপরিচিত, জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র ৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই গুণী মানুষটি। মৃত্যুকালে তিনি ৫ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও সহকর্মী রেখে গেছেন।
জাকির হোসেন শুধু রুপালি পর্দার পেছনেই নন, বরং চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ঢালিউডের অসংখ্য চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনা ও নিপুণ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের বিনোদিত করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দুই মেয়াদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই অসময়ের চলে যাওয়া ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তাঁর আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণে চলচ্চিত্রাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর বিদায় ব্যথিত করেছে অনেককে। জাকির হোসেনের স্মৃতি চারণ ও গভীর শোক প্রকাশ করে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।
জায়েদ খান লিখেছেন:
"জাকির হোসেন ভাই চলচ্চিত্রের একজন গুণী নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তিনি দুইবার আমার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমার বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন। জাকির ভাইয়ের অসময়ে চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের। যেখানেই থাকেন, ভালো থাকেন ভাই। আমিন।"
রুপালি পর্দার গানগুলোকে যারা কোরিওগ্রাফি বা নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন, সেই নৃত্য পরিচালকেরা বরাবরই অন্তরালে থেকে যান। জাকির হোসেন ছিলেন তেমনই একজন নিভৃতচারী ও সৃষ্টিশীল মানুষ, যিনি পর্দার আড়ালে থেকে বহু কালজয়ী গানে তারকাদের নাচিয়েছেন। মাত্র ৫০ বছর বয়সে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির কাছে তাঁর এই হার মানা আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভঙ্গুর চিকিৎসা সহায়তার দিকটিকেও যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয়। 'মাটি ও জনতার কথা' পরিবার এই গুণী শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।