
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ ও শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথম ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় আরও একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবেই এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও রেকর্ড প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ আপডেটে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকার্য চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওচিত্রে ভেনেজুয়েলা জুড়ে ভবন ও যাতায়াত অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ধসে পড়া শহর: সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার-এ। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে থাকা বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন তাসখেলার ঘরের মতো হুড়মুড় করে ধসে পড়তে দেখা গেছে।
রাস্তায় রাত পার: ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ বহুতল ভবনগুলো থেকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন। তীব্র আতঙ্কিত ও ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষ পরবর্তী আফটারশকের (অনুকম্পন) ভয়ে সারারাত খোলা আকাশের নিচে পার্ক ও রাস্তায় কাটিয়েছেন।
মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প যেকোনো দেশের পক্ষেই সামাল দেওয়া এক চরম পরীক্ষা। ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাঝে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশটির সাধারণ মানুষকে এক চরম মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিল। ভেঙে পড়া বহুতল ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ না রেখে ভেনেজুয়েলার দুর্গত মানুষের পাশে দ্রুত মানবিক ও উদ্ধারকারী দল নিয়ে দাঁড়ানো।