
সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র রাস তানুরা এলাকায় দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’-এর একটি হেলিকপ্টার ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ভেতরে থাকা ১৪ আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
আজ রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া সব আরোহীই সৌদির নাগরিক।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আরামকোর মালিকানাধীন ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ১৪ আরোহীর সবাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে নিহত ব্যক্তিরা আরামকোর ঠিক কোন বিভাগে কর্মরত ছিলেন কিংবা হেলিকপ্টারটি কী উদ্দেশ্যে ওড়াউড়ি করছিল, সে বিষয়ে আরামকো কর্তৃপক্ষ বা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সিভিল এভিয়েশন সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে প্রশাসন। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
যে রাস তানুরা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দীর্ঘ প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি অপরিশোধিত তেল লোডিং (Crude Oil Loading) কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তেল ক্ষেত্রে এমন একটি চাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা ফেরার পরপরই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
আরামকোর মতো বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এবং শীর্ষ ধনী তেল কোম্পানির নিজস্ব হেলিকপ্টার ১৪ জন আরোহী নিয়ে এভাবে বিধ্বস্ত হওয়া অত্যন্ত বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা। রাস তানুরা তেল হাবের অপারেশন্স পুনরায় সচল হওয়ার ঠিক এই মুহূর্তে এত বড় দুর্ঘটনা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা যান্ত্রিক ত্রুটির দিকে বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত আরামকোর এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনো অন্তর্ঘাত বা যান্ত্রিক অবহেলা ছিল কি না, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।