
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘আসুন শিশুশ্রম না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।
এই উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিসি মো. রায়হান কবির দৃঢ়তার সাথে বলেন, “কোনো শিশুই অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষা ও শৈশব থেকে বঞ্চিত হবে না। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুরা থাকবে স্কুলে এবং খেলার মাঠে, কোনো কলকারখানায় বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নয়।”
তিনি শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি কড়া নির্দেশ ও আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আপনারা কারখানায় শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন এবং ১৮ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে নিয়োগ দেবেন না। এটি শুধু আইনের বাধ্যবাধকতা নয়, এটি আমাদের বড় একটি মানবিক দায়িত্বও বটে।”
এর আগে গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সম্মেলন কক্ষে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা শিশুশ্রমের নানাবিধ কুফল, শিশুদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক দায়িত্ব বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, বিকেএমইএ (BKMEA), বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম বড় চালিকাশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা, যেখানে শত শত হোসিয়ারি ও গার্মেন্টস কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আড়ালে যাতে কোনো শিশুর সোনালী শৈশব ও শিক্ষার অধিকার হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের এই কড়া বার্তা ও আইনি নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সময়োপযোগী। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, কেবল দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিকেএমইএ ও কারখানা মালিকদের কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে, যাতে গোপনেও কোনো কারখানায় শিশুশ্রম ব্যবহৃত হতে না পারে।