
চলতি জুলাই মাসের জন্য দেশের বাজারে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় বড় ব্যবধানে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একবারে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এলপিজির এই নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ঘোষিত এই নতুন দর আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে দেশের বাজারেও এলপিজির দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে।
সর্বশেষ জুন মাসের দাম: এর আগে সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে মাত্র ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
চলতি জুলাই মাসের দাম: এবার জুনের তুলনায় জুলাইয়ে এক লাফে ৩৫৭ টাকা কমানো হলো। ফলে ১ হাজার ৮৮৫ টাকার সিলিন্ডার এখন থেকে পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৭ টাকা ০৬ পয়সা থেকে কমিয়ে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে বিইআরসি। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবহন চালক ও মালিকদের বড় সাশ্রয় দেবে।
তবে সরকারি খাতের ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতো ৮২৫ টাকাই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হওয়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম (সৌদি সিপি) অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই বড় পতনের সুফল দেশের ভোক্তাদের দিতেই প্রতি মাসের নিয়ম অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে সৌদি আরামকোর দরকে ভিত্তি ধরে দেশে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।
বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, তখন জুলাইয়ের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দাম ৩৫৭ টাকা কমা নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জন্য এক মস্ত বড় সুসংবাদ। তবে বিইআরসি প্রতি মাসে খাতা-কলমে দাম কমালেও মাঠপর্যায়ে বা পাড়ার দোকানে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি হাতিয়ে নেয় বলে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
মনে করে, ১ হাজার ৫২৮ টাকার এই নতুন সরকারি রেট যাতে তৃণমূলের প্রতিটি সাধারণ মানুষ পায়, সেজন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি।