
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সুসংবাদ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের ফলশ্রুতিতে দেশটির শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে。
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার আর মালয়েশিয়া সরকার নয়, বরং বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করার অধিকার পেয়েছে। পূর্বে তৈরি হওয়া বিভিন্ন রিক্রুটিং সিন্ডিকেট ও ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি এড়াতে এখন থেকেই সরকার ও বৈধ এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার যদি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত আবারও বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে গত দেড় দশকে একাধিকবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ ও চালুর খেলা চলেছে:
২০০৮ ও ২০১৬: অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালে বাজার বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর পর ২০১৬ সালে এটি আবার চালু হয়।
২০১৮: আবারও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালে তৎকালীন মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয়।
২০২২: চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের আগস্টে আবারও কর্মী পাঠানো শুরু হয়।
২০২৪: সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও শর্ত শিথিলের পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসে বাজারটি আবার চালু হলো।
এদিকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েও যারা যেতে পারেননি, এমন ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বোয়েসেলকে (BOESL)। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে পেরেছেন। বাকি থাকা ৪ হাজারেরও বেশি কর্মীর ভাগ্য নির্ধারণে দ্রুত পৃথক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার এই বড় খবরের পাশাপাশি আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খবর জানা গেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি
ইউনিট’ (SSU)
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো ‘১০ সদস্যের সিন্ডিকেট’ বা ‘১০০ সদস্যের সিন্ডিকেট’ তৈরি করে গরিব মানুষের রক্ত চোষার পথ এবার যেন কোনোভাবেই তৈরি না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিচ্ছে, তা যেন শুধু কাগজের বিজ্ঞপ্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দালালের খপ্পর ও এজেন্সির অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধে কঠোর আইনি প্রয়োগ প্রয়োজন, যাতে দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নিরাপদে ও সম্মানের সাথে বিদেশে গিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।