
দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দেশে আরও ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ, স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ এবং নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের মেগা পরিকল্পনার কথা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেন।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) ঐতিহ্যের গৌরব ও সাফল্যের ৮০ বছর পেরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ঢামেক দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এই ঐতিহাসিক ঘোষণাগুলো দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা পান, সেজন্য প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের বর্তমান ৫১ শয্যার সরকারি হাসপাতালগুলোকে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব শিগগিরই সারাদেশে নতুন করে আরও ৫ হাজার দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশের চিকিৎসকদের মেধা ও দক্ষতার প্রশংসা করার পাশাপাশি রোগীদের দেশীয় চিকিৎসার ওপর আস্থা ফেরানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চিকিৎসকদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন:
"আপনারা যদি নিজেদের মেধা ও মানবিক আচরণ দিয়ে চিকিৎসকদের ওপর দেশের সাধারণ রোগীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে প্রতি বছর বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাবদ দেশের যে বিপুল পরিমাণ—প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাইরে চলে যায়, তা আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। এই টাকা দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নেই অবদান রাখবে।"
অনুষ্ঠানে হাসপাতালগুলোর পরিবেশ সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (Medical Waste Management) চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার জোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে ঢামেক ক্যাম্পাসে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারের ঢামেক দিবসের এই অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন আবেগঘন আমেজ পায়, কারণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান—যিনি নিজে এই ঢাকা মেডিকেল কলেজেরই একজন অত্যন্ত কৃতী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী (অ্যালামনাই)। নিজের পুরনো ক্যাম্পাসে এসে ডা. জুবাইদা রহমানও সহকর্মী ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই একগুচ্ছ ঘোষণা বাংলাদেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতকে পুনর্গঠন করার এক শক্তিশালী পথরেখা। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ৫টি শিশু হাসপাতাল চালু করা এবং ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশের লাখ লাখ সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে। প্রতি বছর চিকিৎসার নামে দেশ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে চলে যাওয়া আমাদের অর্থনীতির জন্য এক বড় রক্তক্ষরণ। এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে হলে শুধু বড় বাজেট নয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান বাড়াতে হবে এবং চিকিৎসকদের রোগীবান্ধব মানসিকতা ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের দক্ষতা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।