প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং
বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য সৌদির নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ও যাতায়াত প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে একটি নজিরবিহীন ও যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন পাইলট প্রকল্প ‘প্যাকেজ ভিসা’ (Package Visa) চালু করেছে। এই বিশেষ সুবিধার আওতায় বাংলাদেশিরা এখন থেকে আলাদা কোনো ভিসার আবেদন বা দূতাবাসে না গিয়েই, একটি মাত্র সমন্বিত ডিজিটাল বুকিংয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট, হোটেল এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা একসঙ্গে পেয়ে যাবেন。
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও সুবিধাজনক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তালিকায় থাকা সৌভাগ্যবান ৭টি দেশ
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভিশন-২০৩০ (Vision 2030) পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৈশ্বিক পর্যটন খাতকে গতিশীল করতে প্রাথমিকভাবে সাতটি দেশকে এই বিশেষ প্যাকেজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। দেশগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ
২. ভারত
৩. পাকিস্তান
৪. মিশর
৫. জর্ডান
৬. ইন্দোনেশিয়া
৭. মেক্সিকো
ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির পরিধি আরও বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও এই সমন্বিত ভিসা সেবা উন্মুক্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়
কোনো দপ্তরে যাওয়ার ঝামেলা নেই, ৪৮ ঘণ্টায় ইমেইলে ভিসা
নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, ভ্রমণকারীদের আর আলাদা করে ভিসার জন্য কোনো লাইনে দাঁড়াতে হবে না কিংবা কোনো কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
ভ্রমণকারীরা অনুমোদিত এজেন্সির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে তাদের পছন্দসই রিটার্ন ফ্লাইট এবং সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ন্যূনতম ৪-তারকা (4-Star) হোটেল বুকিং সম্পন্ন করার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। প্যাকেজটি কেনার সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক উপায়ে ভিসা ইস্যু করা হবে। এরপর ভ্রমণকারীরা সরাসরি তাদের ব্যক্তিগত ইমেইলে বিমান টিকিট, হোটেল ভাউচার, ভিসা এবং বাধ্যতামূলক ভ্রমণ বীমাসহ (Travel Insurance) প্রয়োজনীয় সব ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেয়ে যাবেন。
বর্তমানে এই বিশেষ ওয়ান-স্টপ সেবা দেওয়ার জন্য সৌদি সরকার দেশটির শীর্ষস্থানীয় দুটি ট্রাভেল এজেন্সি—‘রিজারভাল’ (Reserval) এবং ‘আলমোসাফের’ (Almosafer)-কে যৌথভাবে অনুমোদন দিয়েছে।
ভিসার মেয়াদ, খরচ ও ওমরাহ সংক্রান্ত নিয়মাবলি
ভিসার মেয়াদ ও অবস্থান: এই প্যাকেজ ভিসার মোট মেয়াদ থাকবে ৩ মাস (৯০ দিন)。 এটি মূলত একটি ‘সিঙ্গেল এন্ট্রি’ বা একবার প্রবেশের অনুমতি সংবলিত ট্যুরিস্ট ভিসা। এই ভিসায় সৌদি আরবে সর্বনিম্ন ২ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ দিন পর্যন্ত অবস্থান করা যাবে।
প্যাকেজের সর্বনিম্ন খরচ: প্রাপ্তবয়স্ক একজন ভ্রমণকারীর জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য (ফ্লাইট ও হোটেলসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,০০০ সৌদি রিয়াল। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের অবস্থানের জন্য মূল ভাড়ার সাথে ১,০০০ সৌদি রিয়াল করে যুক্ত হবে। এর মধ্যে ভিসা প্রসেসিং ও ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স ফি বাবদ মোট খরচ পড়বে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল।
ওমরাহ করার সুযোগ: এই প্যাকেজগুলোতে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ্-সংক্রান্ত কোনো বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক গাইড বা ট্রান্সপোর্ট পরিষেবা আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। তবে এই ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থানে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে এবং ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ওমরাহ্ পালন করতে পারবেন।
বাতিলকরণ নীতি: কোনো অপ্রত্যাশিত বা জরুরি পরিস্থিতির কারণে যদি কেউ ফ্লাইট বা হোটেল বুকিং বাতিল করেন, তবে সমন্বিত প্যাকেজটির নিয়ম অনুযায়ী ভিসাটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং অর্থ ফেরতের বিষয়টি অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির পলিসি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবের এই ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালুর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে এক বিরাট বিপ্লব। এতদিন সাধারণ পর্যটক বা ওমরাহযাত্রীদের এজেন্সির দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত টাকা এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের দীর্ঘ সময় নষ্ট করতে হতো। নতুন এই স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনৈতিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে অনুমোদিত এই দুটি সৌদি ট্রাভেল এজেন্সির (Reserval ও Almosafer) সাথে দেশীয় ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর (ATAB/HAAB) একটি সহজ সংযোগ তৈরি করে দেওয়া, যাতে সাধারণ প্রযুক্তি-অদক্ষ মানুষও খুব সহজে এই ওয়ান-স্টপ সেবার সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
© মাটি ও জনতার কথা