
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু হওয়া টানা উত্তাল আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ নিজেদের ৩ দফা মূল দাবি শতভাগ আদায় করে নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তবে দিল্লিতে আন্দোলন সফল হলেও পশ্চিমবঙ্গে এর রেশ কাটেনি; আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে রাজপথ কাঁপানো তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন ও প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল পাসের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বিজয় মিছিল শেষে নিজেদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে সিজেপি।
দিল্লিতে মূল দাবি আদায় হলেও গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যৌথ উদ্যোগে ‘ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ’ নামে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ ওঠে, ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে মিছিল থেকে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে পানির বোতল ও জুতো ছোড়া হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজ শনিবার (২৫ ২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় কড়া বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানান, আহত সাংবাদিকদের থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিধানসভায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"মিছিল থেকেই আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত ছয়জন সাংবাদিকের সাথে দেখা করেছি। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামপন্থিদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ছিল। সিজেপি নিজেদের ছাত্র সংগঠন দাবি করলেও তাদের কোনো বৈধ ছাত্র সংগঠন আছে বলে আমার জানা নেই। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে।"
পুলিশের প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "বারবার উস্কানি দেওয়া সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশ অত্যন্ত সংযম দেখিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো বলপ্রয়োগ করা হয়নি।"
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানান, এই তাণ্ডবের সাথে যুক্ত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী বা নিট (NEET) আন্দোলনের অংশ নন।
অভিযুক্ত আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রধান কয়েকজনের নাম সরাসরি বিধানসভায় প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের মতো মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া কঠোর ‘গুন্ডা দমন আইন’ যুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভারতের তরুণদের ৩ দফা দাবি ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায়ের ঘটনা প্রমাণ করে যে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজই যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে আন্দোলনের নামে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। মূল আন্দোলনের যৌক্তিকতার সুযোগ নিয়ে যেকোনো ধরনের বহিরাগত দুষ্কৃতী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।