
নতুন প্রাণ
বুনো মাটি যেমন খরাতেও বুকের গভীরে একফোটা জল লুকিয়ে রাখে
মা তেমনই এক অগাধ ধৈর্যের নাম।
আমার অকালপক্ক ভুলগুলোকে তিনি কোনোদিন ফেলে দেননি
বরং ঝরা ফুলের মতো কুড়িয়ে নিয়ে সযত্নে জমিয়ে রেখেছেন বুকে।
কখনও নতুন কুঁড়ি ফুটবে কি ফুটবে না—
সেই সংশয়ে আমি যখন দমে গেছি
মা তখন এক পশলা বৃষ্টির মতো আলতো ছোঁয়ায়
আমার সুপ্ত বিশ্বাসকে আবার জাগিয়ে তুলেছেন।
///
আলাদা জীবন
আজ অথবা কাল, অথবা আরও একটু পর
তুমি ও আমি সম্মুখে ধোঁয়া উড়াবো
আমাদের গুপ্ত কথাগুলো পাতার মতো ঝরবে
আমাদের চাহনি ডাঙায় ওঠা মাছের মতো লাফাবে
আমরা তুমুল আলোচনা করে কাছাকাছি থাকতে
অঙ্গিকার করবো, অঙ্গিকার বাঁধবো...
অথচ আজ অথবা কাল, আমরা আলাদা হবোই হবো।
///
সাতকড়া ও গরুর মাংস
সবুজ পাহাড়ের ঐ 'সাতকড়া' ফল,
রান্নায় মিশে দেয় অটুট এ বল।
গরুর মাংস আর টক টক ঐ স্বাদ,
মিটে যায় হদয়ের সব পরমাদ।
আদা ও লবণে ঐ মাখা মাখা রেশ,
সিলেটি ঐতিহ্য—বড়ই যে বেশ।
দূর প্রবাসেও ঐ সাতকড়ার টান,
কেঁদে ওঠে বারবার এ অস্থির প্রাণ।
জৈন্তার টিলা আর পাহাড়ের মায়া,
ফলেতে লেগে থাকে ছায়ারি সে ছায়া।
ঘ্রাণেতে মজে যায় পুরো এ মহল্লা,
সিলেটি রান্নায় যে নেই কোনো পাল্লা।
মায়ের হাতের সেই 'কুদা' মাখা ভাত,
মনে পড়ে বারবার সেই দিনরাত।
সিলেটের মাটিতে এই সুন্দরের বোনা,
সাতকড়া ঘ্রাণ যেন রূপালি সে সোনা।
///
মাটির পুতুল
মাটির দেহটি, মিছে এই ঘর,
আপন মানুষও, হয়ে যায় পর।
নূরের বাতিটি, ভেতরে জ্বলে,
খুঁজি তারে আজ, আকাশের তলে।
পাখির ডানায়, মেঘের আড়াল,
ছিঁড়ে যায় রোজ, সময়ের জাল।
ফুরালে বেলা, ফিরে যেতে হয়,
বুকের ভেতর, অজানার ভয়।
মাটির পৃথিবী, মিছে এই খেলা,
ভাসাই তরণী, শেষ এক বেলা।
শূন্যের মাঝে, নিজেকেই খুঁজি,
দুচোখ বুজলে, সবটুকু বুঝি।
///
দীর্ঘশ্বাস
দেখতে দেখতে কেটে গেলো জীবন
ধরতে পারিনি বেঁচে থাকার মানে টা কি
প্রতিদিনই চলছে কাটাছেড়া তবু নেই পূর্ণতা
কতোজন এলো গেলো জেনেছি সেই কথা
কতো স্বজন বিয়োগে হৃদয়ে বেঁধেছে ব্যথা
শিক্ষা নেয়া হয়নি তবু জীবনের কাছে ফের
অথচ কতোটা হিসেব হয়নি কষা হয়নি দেখা
সাজানো-গোছানোর মাঝেও রয়েছে কিছু জের।
এভাবেই বুঝি কেটে যাবে প্রাণের নিঃশ্বাস
নিজের ভেতর জমা রেখে কিছু ভুলক্রটি
ফুরাবে সব চাওয়া-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।