
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত কাজ ও অর্জনের পর নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবালের নতুন বাণিজ্যিক সিনেমা ‘গুলশানের চামেলী’-তে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ অনুরাগী ও সমালোচকদের চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেসব কটাক্ষ ও উপদেশের জবাব সোজা এবং স্পষ্টভাবে দিয়েছেন এই তারকা অভিনেত্রী।
গত রোববার (২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে সিনেমাটির জমকালো মহরত। মহরত অনুষ্ঠানের পর নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করে দীর্ঘ এক আবেগঘন ও কড়া পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন বাঁধন।
ফেসবুক পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বাঁধন অত্যন্ত কঠোরভাবে লেখেন:
"একটা বিষয় আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমার সংসারের খরচ তো কেউ দেয় না, আর আমার জীবনটাও কেউ যাপন করে না। সুতরাং, দয়া করে আপনাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমাকে উপদেশ দিতে আসবেন না। যাদের উপদেশ আমি বিশ্বাস করি এবং সম্মান করি, সেরকম মানুষ আমার জীবনে ইতোমধ্যে আছেন।"
নতুন এই বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পিছনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, সিনেমাটিতে রাজি হওয়া তাঁর জন্য বেশ কঠিন একটি সিদ্ধান্ত ছিল। তবে চিত্রনাট্য ও গল্পটি তাঁর ভীষণ মন ছুঁয়ে গেছে। একই সাথে শুরু থেকেই পরিচালক ও টিমের পেশাদারিত্ব ও সম্মান প্রদর্শন তাঁকে মুগ্ধ করায় তিনি কাজটিতে সম্মতি দেন।
নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, বহু নির্মাতা ও প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে। কোথাও অত্যন্ত ভালো স্মৃতি রয়েছে, আবার কোথাও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রতিটা অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজকের পরিপক্ক বাঁধন হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।
পোস্টের ইতি টেনে তিনি লেখেন, "আমি আমার বর্তমান জীবন নিয়ে অত্যন্ত সুখী। ইনশাআল্লাহ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি আরও সামনে এগিয়ে যাব এবং আরও অনেক বেশি সুখী হব।"
উল্লেখ্য, নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।
বাঁধন ছাড়াও এই তারকা বহুল সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন:
আমিন খান
ওমর সানী
মিশা সওদাগর
বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনা
আশীষ খন্দকারসহ অনেকে।
চলতি ২০২৬ সালের শেষ দিকে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বা ‘খুফিয়া’-র মতো আন্তর্জাতিকমানের কাজের পর মূলধারার কমার্শিয়াল সিনেমায় বাঁধনের আগমনকে অনেকে ভালোভাবে না নিলেও, একজন শিল্পীর জন্য মাধ্যম বা ঘরানার চেয়ে চরিত্রের গভীরতাই আসল। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া এবং যেকোনো সমালোচনার মুখেও নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকা বাঁধনের আত্মবিশ্বাসেরই পরিচয় বহন করে।