
টলিউড ও বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। তেলেগু সিনেমা ‘মায়া লেডি’ (Maya Lady)-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর জমকালো অভিষেক হতে যাচ্ছে। সিনেমাটিতে মধুমিতার বিপরীতে দেখা যাবে ‘বাহুবলী’ খ্যাত তারকা অভিনেতা রাকেশ ভারেকে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই নতুন ও মেগা প্রজেক্টের বিশেষ ঝলক প্রকাশ করেছেন মধুমিতা নিজেই। ছবি ও মুহূর্তগুলো শেয়ার করে তিনি জানান, ‘মায়া লেডি’ তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম এক বিশেষ কাজ এবং এর মাধ্যমে একেবারে নতুন ও ভিন্নধর্মী এক চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি।
‘মায়া লেডি’ মূলত একটি চমৎকার রোমান্টিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র। চিরাচরিত প্রেমের গল্পের পাশাপাশি এতে থাকছে টানটান রহস্য, সসপেন্স ও অ্যাকশনের দুর্দান্ত মেলবন্ধন।
সিনেমাটি সম্পর্কিত প্রধান তথ্যসমূহ:
পরিচালক: প্রশঙ্কর।
প্রযোজনা: অভিনেতা রাকেশ ভারের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘ক্রেজি অ্যান্টস প্রোডাকশন’ (Crazy Ants Production)।
সংগীত: সিনেমার গান ও আবহ সংগীত (Background Score) পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক বিশাল চন্দ্রশেখর।
নাম পরিবর্তন: জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সিনেমাটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ওকে ওকা আশা’। তবে গল্পের মূল ভাব ও পরিকল্পনায় আধুনিক পরিবর্তন আনার পর পরিমার্জিত নাম রাখা হয় ‘মায়া লেডি’।
দক্ষিণী সিনেমার এই বড় খবরের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী। ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। বাংলাদেশে এটিই তাঁর প্রথম কাজ, যাকে নিজের ক্যারিয়ারের এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায় হিসেবে দেখছেন মধুমিতা।
ভারতীয় বাংলা ছোটপর্দার কালজয়ী মেগা ধারাবাহিক ‘বোঝে না সে বোঝে না’ (পাখি চরিত্র) এবং ‘কুসুম দোলা’-র মাধ্যমে ঘরে ঘরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মধুমিতা সরকার। পরবর্তীতে নিজেকে কেবল ছোটপর্দায় সীমাবদ্ধ না রেখে বড়পর্দা ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন। ‘চিনি’, ‘কুলের আচার’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় প্রশংসিত অভিনয়ের পর এবার সরাসরি দক্ষিণ ভারতে পাড়ি জমালেন তিনি।
বাংলা ছোটপর্দা থেকে শুরু করে কলকাতার মূলধারার সিনেমা, এরপর বাংলাদেশের 'গুলশানের চামেলী' এবং এখন তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি—মধুমিতা সরকারের এই অগ্রযাত্রা তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও বহুমুখী অভিনয় দক্ষতারই প্রমাণ। 'মায়া লেডি'-র মাধ্যমে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর এই নতুন পদচারণা সর্বভারতীয় পর্যায়ে বাংলা ভাষার অভিনয়শিল্পীদের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি করবে।