
আওয়ামী লীগ আদালতের মাধ্যমে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই এই সংগঠনের প্রধান যদি কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করেন, তবে তা দেশের কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা আইনিভাবে বৈধ বা সমীচীন হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন:
"শেখ হাসিনা আদালতের রায়ে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁর বিষয়ে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে যে কঠোর আইনি অবস্থান নিয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও সেই সিদ্ধান্তের সাথে শতভাগ একমত। এ অবস্থায় কোনো সংবাদমাধ্যম যদি তাঁর বক্তব্য প্রচার করে, তবে তা আইনগতভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য বা সমীচীন হবে—সেই প্রশ্নটি থেকে যায়।"
তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, আইনশৃঙ্খলা ও দেশের আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে এই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ অবহেলার কারণে সামান্য জলাবদ্ধতা হলেই কেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ এবং আরও সুন্দর ও আধুনিক রূপ দিতে সরকার দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এছাড়া জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) গুণগত মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান:
ফরেনসিক অডিট: বিটিভির সম্প্রচার ও প্রশাসনিক অনিয়ম দূর করে মান বাড়াতে একটি বিশেষ ‘ফরেনসিক অডিট’ (Forensic Audit) শুরু হতে যাচ্ছে।
ডিজিটালাইজেশন: অডিটের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিটিভির আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন, মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং আধুনিক সম্প্রচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান গুজব ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার পরিধি ও ব্যবহার যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজবের পরিমাণও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সরকার এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে শিগগিরই নতুন নীতিমালা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।
আদালতের নির্দেশে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ তৈরি হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনকে সংস্কার করা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিটিভির অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অডিট করার সিদ্ধান্ত দেশের সম্প্রচার খাত ও ইতিহাসের সুরক্ষায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।