
জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক উন্মুক্ত কনসার্টে গাইতে গিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘আর্ক’-এর কালজয়ী ভোকালিস্ট হাসান। মঞ্চে পারফর্ম করার সময় দর্শকসারি থেকে হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারা হয়।
ঘটনাটির একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সংগীতানুরাগী ও নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শোবিজ অঙ্গনের বহু তারকা ও শিল্পী এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান।
ফেসবুক পোস্টে নিজের বিস্ময় ও কষ্ট প্রকাশ করে হাসান লেখেন:
"ঘটনাটি আমার কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমি কখনো হইনি। বহু বছর ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীত করছি, এই দীর্ঘ সময়ে বিচিত্র অনেক ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে গান গাওয়ার সময় একজন শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা হতে পারে, এমনটা কখনো দেখিনি বা ভাবিওনি।"
তবে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ সত্ত্বেও বিষয়টিকে উদারতা ও ক্ষমার চোখে দেখার কথা জানিয়ে এই ব্যান্ড তারকা লেখেন, "আমি বিশ্বাস করতে চাই, যে কাজটি করেছে, সে হয়তো না বুঝেই হুট করে এমনটা করে ফেলেছে।"
ভবিষ্যতে দেশের কোনো শিল্পী যেন কনসার্টের মঞ্চে এমন লাঞ্ছনা বা অপমানের শিকার না হন, সে বিষয়ে আয়োজক ও শ্রোতাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাসান বলেন, শিল্পীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নন—তারা পুরো দেশের এবং সাধারণ মানুষের জন্যই গান করেন। বিনিময়ে তারা শুধু মানুষের ভালোবাসা চান।
রাজনীতি ও শিল্পীর মধ্যকার পার্থক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা দেন:
শিল্পীত্ব চিরন্তন: "একজন শিল্পী ৫ বা ১০ বছরের জন্য শিল্পী নন, তিনি আজীবনের জন্যই শিল্পী।"
পেশাদারিত্ব: বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি বা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে আমন্ত্রণ পেয়ে শিল্পীদের গান গাইতে যেতে হয়। তাই বলে কোনো আয়োজনে পারফর্ম করার কারণে একজন শিল্পীকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া বা রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা কোনোভাবেই উচিত নয়।
মঞ্চে গান গাওয়ার সময় শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারার এই ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও কনসার্ট কালচারের জন্য এক বড় আশঙ্কাজনক সংকেত। কোনো শিল্পীকে তাঁর রাজনৈতিক মতামত বা অতীত আয়োজনের জন্য আক্রমণ করা সুস্থ সংস্কৃতির পরিচায়ক নয়। শিল্পীকে শিল্পীর জায়গায় সম্মান করা এবং কনসার্টগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।