
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপ এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবার সুবাতাস বইছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রমিত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম৬’ (BPM6) অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই সর্বশেষ চিত্র প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে:
| তারিখ | গ্রস (Gross) রিজার্ভ | আইএমএফ-এর (BPM6) রিজার্ভ |
| ১০ আগস্ট, ২০২৬ (সোমবার) | ৩৬.৯৬ বিলিয়ন ডলার | ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার |
| ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বুধবার) | ৩৭.০৬৬ বিলিয়ন ডলার | ৩২.২৬০ বিলিয়ন ডলার |
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোনো দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে আইএমএফ-এর ‘বিপিএম৬’ (Balance of Payments and International Investment Position Manual) পদ্ধতিকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য হিসাব পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে:
আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা: বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভ দিয়ে পরবর্তী প্রায় সাড় ৫ মাসেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের (ন্যূনতম ৩ মাস) চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।
রেমিট্যান্স প্রবাহ ও ডলার বাজারের স্থিতি: ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রপ্তানি আয়ে স্বস্তি ফেরায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা জমার পরিমাণ বাড়াতে মূল ভূমিকা পালন করছে।
ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের মাঝে গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন এবং আইএমএফের নিয়মে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বড় স্বস্তির খবর।
প্রবাসীদের হুন্ডি এড়িয়ে অফিশিয়াল চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের মুদ্রাবাজার ও বৈদেশিক খাতের গতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে