
রাজধানীর অভিজাত এলাকা হাতিরঝিলের একটি ফ্ল্যাট বাসায় দিনে-দুপুরে ফিল্মি কায়দায় বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি বিশেষ দল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের চার সদস্য হলেন: ১. মো. রাকিব (৩২) ২. মো. রাশেদুল হাওলাদার (২৭) ৩. মো. জুবায়ের ইসলাম (৪০) ৪. বিজয় সরকার ওরফে ডেফিড (২৭)
গ্রেপ্তারের সময় সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে ডাকাত চক্রটির ব্যবহৃত চমকপ্রদ কৌশল ও অস্ত্রশস্ত্রের সন্ধান পায় ডিবি। গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:
অগ্নেয়াস্ত্র: ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি।
অন্যান্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক: ১টি খেলনা পিস্তল, ৩টি ধারালো চাপাতি, ৫টি তাজা ককটেল এবং ১টি স্পাইক ড্যাগার।
ছদ্মবেশের মাধ্যম: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করতে এবং যাতায়াত সহজ করতে চলচ্চিত্র শুটিং ইউনিটের ২টি ভুয়া পরিচয়পত্র (ID Card)।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির গুলশান বিভাগ জানতে পারে যে, ছয় সদস্যের একটি পেশাদার ডাকাত দল হাতিরঝিল সংলগ্ন একটি বাসায় প্রবেশ করে সোনাদানা ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুটের পরিকল্পনা করছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাকাত দলটি আগে থেকে সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও আশপাশের এলাকা রেকি (Reconnaissance) করে যায়। গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর ডিবির গুলশান বিভাগের প্রায় ৪০ জন চৌকস সদস্যের একটি বিশেষ দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ডিবি কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ছয় সদস্যের ওই ডাকাত দলের বাকি দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে ডিবির একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চলচ্চিত্র শুটিংয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অপরাধ করার এই অভিনব প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগের। ডিবি পুলিশের সময়োপযোগী ঝটিকা অভিযানের কারণে হাতিরঝিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত কিংবা চোরাই পথে কীভাবে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল ডাকাতদের হাতে পৌঁছাল—তা গভীরভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।