
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক বিশাল রদবদল ও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাওয়ার পর একদিকে তাঁর ছেড়ে দেওয়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মন্ত্রিসভার ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়’ দপ্তর যেমন ফাঁকা হচ্ছে, অন্যদিকে আগামী ১৭ আগস্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সফল ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা রদবদলের জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশক চরম প্রতিকূলতার মুখে থেকে বিএনপির হাল ধরে রাখা বর্ষীয়ান নেতা মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল কৌতূহল।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দৌড়ে রিজভী: রাজপথের দীর্ঘ লড়াইয়ে পোড়খাওয়া নেতা ও দলের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-র নামই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে।
কাউন্সিল পর্যন্ত সাময়িক নেতৃত্ব: দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের তথ্য মতে, আগামী জাতীয় কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়েই বিএনপি পরিচালিত হবে। কাউন্সিলেই চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের নাম ঘোষণা করা হবে।
সরকারের ছয় মাসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তত ৬ থেকে ৭টি পদে পরিবর্তন বা নতুন মুখ যুক্ত করতে পারেন। একাধিক দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমানোর চিন্তাভাবনাও চলছে।
যেসব পদে পরিবর্তনের জোর সম্ভাবনা:
১. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: ফখরুল ইসলামের ফাঁকা করা এই হেভিওয়েট দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
২. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকারে স্থানান্তরিত হলে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নাম আসছে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অথবা দীর্ঘদিন কারাভোগ করা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর-এর।
৩. শরিক দলের অন্তর্ভুক্তির আভাস: সরকারে ইতিমধ্যে শরিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নুর ও সাকির অন্তর্ভূক্তির পর এবার নতুন করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক-এর মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে।
৪. প্রতিমন্ত্রীদের প্রমোশন: বেশ কয়েকজন দক্ষ প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য দপ্তর পরিবর্তনের সংক্ষেপ চিত্র
│ • মির্জা ফখরুল ➔ রাষ্ট্রপতি (মনোনয়নপত্র জমা সম্পন্ন)
│ • সালাহউদ্দিন আহমদ ➔ সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
│ • শহীদউদ্দিন এ্যানি / লুৎফুজ্জামান বাবর ➔ সম্ভাব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
│ • রুহুল কবির রিজভী ➔ সম্ভাব্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব (বিএনপি)
আগামী ১৭ আগস্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ১৮০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গঠিত একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি সমস্ত মন্ত্রীদের কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
১৮০ দিনের সার্বিক সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতির সামনে সার্বিক তথ্য তুলে ধরবেন। যেসব মন্ত্রণালয়ের গতি শ্লথ, সেসব জায়গায় দ্রুত নতুন মুখ দেখা যাওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।