
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। প্রাণঘাতী এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী—যা এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের নতুন রেকর্ড।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এই দৈনিক চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এলাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকার বাইরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যান (২০২৬)
│ 🚨 গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৯ জন (বছরের একদিনে সর্বোচ্চ)
│ 🏥 গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত: ১,৫৭১ জন (বছরের একদিনে সর্বোচ্চ)
│ 📊 চলতি বছরে মোট মৃত্যু: ১৩০ জন
│ 📈 পূর্বের সর্বোচ্চ মৃত্যু: ৫ জন (১ সেপ্টেম্বর ও ২৩ আগস্ট)
│ 📈 পূর্বের সর্বোচ্চ আক্রান্ত: ১,৩২৪ জন (১ সেপ্টেম্বর)
নতুন মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যুক্ত হওয়ার পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে।
এর আগে চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর এবং গত মাসের ২৩ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ ৫ জন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে রবি ও সোমবারের পরিসংখ্যানে সেই আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে, যা সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকির বার্তা দিচ্ছে।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর হলে অবিলম্বে ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1) করানো, পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ এবং শরীরে রক্তের প্লাটিলেট বা রক্তচাপ কমলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
ডেঙ্গুর এই আশঙ্কাজনক ঊর্ধ্বগতি রুখতে অবিলম্বে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর চিরুনি অভিযান জোরদার করা দরকার। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলে জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সচেতনতা বজায় রাখাই এখন ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়।