
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সীমানাপ্রাচীরের দেয়ালে অঙ্কিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ চার আসামিকে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। দেশের সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে তাঁদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আসামিদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের মধ্যে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও তাঁর অন্যতম সহযোগী সাকিবুল হাসানকে ৩ দিন এবং বাকি দুই আসামি সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকারকে ২ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী চরম উসকানিমূলক এই অপরাধের পেছনের ষড়যন্ত্র তুলে ধরে বলেন,
“আসন্ন দুর্গাপূজার আগে দেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং ‘মব’ সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এরা। আসামিরা সরকারের বিরুদ্ধে একপ্রকারের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে উসকানি দিচ্ছে। এদের পেছনে কোনো নেপথ্য চক্র আছে কি না, তা উদঘাটনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।”
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন ১ নম্বর আসামি আয়াশ একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি এবং সাকিবুল সহ তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাঠপর্যায়ের যোদ্ধা ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা বললেই কি সব অপরাধ মাফ হয়ে যাবে? দেশের আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের বিশ্রামের বেঞ্চ ও ডাস্টবিন বসায়। একই সাথে দেওয়াল সংস্কার করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সত্যজিৎ রায়সহ জাতীয় জীবনের ১০ জন প্রখ্যাত গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে আয়াশ ও মারজিয়াসহ কয়েকজন গিয়ে বিশ্বকবির গ্রাফিতিতে চুনকালি লেপে দেন। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁদের হাতেনাতে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। আয়াশ এর আগেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বিতর্কিত ঘটনা এবং নানা রাজনৈতিক সংঘর্ষের সৃষ্টি করে ভাইরালের আশায় আলোচনা-সমালোচনায় আসেন।
জাতীয় সংস্কৃতির পুরোধা ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতিতে আঘাত হানা কেবল কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে আঘাতের শামিল। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, বাকস্বাধীনতা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে এ জাতীয় নৈরাজ্যবাদী তাণ্ডবকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়; আইনি তদন্তের মাধ্যমে এর পেছনের আসল ইন্ধনদাতাদেরও মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন।