
অনলাইন বিজ্ঞাপনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে বিশাল ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ডিভাইসে অবৈধ নজরদারি ও আড়িপাতার ভয়ংকর প্রমাণ পাওয়া গেছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার চক্রান্তের বিরুদ্ধে
কানাডাভিত্তিক প্রখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা ‘সিটিজেন ল্যাব’ (Citizen Lab) এবং নিউইয়র্কের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা ‘কনফিয়েন্ট’ (Confiant)-এর পৃথক ও যৌথ গবেষণায় এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী তথ্য উন্মোচিত হয়েছে
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যান্ডিরু’ (Candiru) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাড-প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক বাণিজ্যিক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা ‘ডিসকভার-টেক’ (Discover-Tech)
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক স্তরে অন্যায়ভাবে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্টদের ডিভাইসে আড়িপাতার অভিযোগে স্পাইওয়্যার নির্মাতা ‘ক্যান্ডিরু’-কে ২০২১ সালেই মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ (US Department of Commerce) কালো তালিকাভুক্ত করেছিল
ইসরায়েলি ডিজিটাল স্পাইওয়্যার নেটওয়ার্ক
│ 🏢 মূল ইন্ধনদাতা সংস্থা: ডিসকভার-টেক (Discover-Tech, ইসরায়েল)
│ 🦠 ক্ষতিকর স্পাইওয়্যার: ক্যান্ডিরু (Candiru)
│ 🌐 মাধ্যম: গুগল, কমকাস্ট ও ইয়ানডেক্সের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক
│ 📱 বিস্তার: ১,২০,০০০০০+ ওয়েবসাইট এবং ৭৫,০০০+ মোবাইল অ্যাপস
│ 🎯 ভুক্তভোগী: পেন্টাগন, ন্যাটো, জাতিসংঘ, আইসিসি, আল জাজিরা ইত্যাদি
গবেষকরা জানিয়েছেন, হেডফোন বা ইয়ারপডের মতো দৈনন্দিন সাধারণ পণ্যের আপাতনিরীহ চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে স্পাইওয়্যার ছড়াত ডিসকভার-টেক
সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার (Al Jazeera) ৪৫টি উইন্ডোজ (Windows) কম্পিউটার ও ডিভাইসে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে ডিসকভার-টেকের এই বিজ্ঞাপনী ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছিল
অন্যদিকে, কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু জানান:
“ফিলিস্তিনের যেকোনো ওয়েবসাইটে গেলেই ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন দেখা যেত। এর মাধ্যমে পুরো একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের সমস্ত ডিজিটাল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নজরদারির আওতায় এনেছিল তারা। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে অন্তত ১ কোটি বিজ্ঞাপন বিতরণ করে কোটি কোটি মানুষকে ট্র্যাক করত এই চক্রটি
।”
তাছাড়া চিপ প্রস্তুতকারক এনভিডিয়া (Nvidia), ব্রডকম (Broadcom), স্যানডিস্ক (SanDisk) ও মাইক্রন (Micron)-এর মতো শীর্ষ প্রযুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং ইউরোপ-মেক্সিকোর প্রধান গণমাধ্যমগুলোতেও এই বিপজ্জনক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হতো
ইসরায়েলি বিজ্ঞাপনী সংস্থার এই আড়িপাতার চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র প্রকাশ্যে আসতেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে সমন্বিত আইনি ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে
গুগল (Google): তদন্তে সিটিজেন ল্যাবকে সহায়তা করার পাশাপাশি গুগলের নীতিমালার চরম লঙ্ঘনের দায়ে ডিসকভার-টেককে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছে
আইএবি ইউরোপ (IAB Europe): ইউরোপীয় ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থাটি কড়া পদক্ষেপ নিয়ে গত সপ্তাহে ডিসকভার-টেককে তাদের বিশ্বব্যাপী অনুমোদিত বিক্রেতার তালিকা (Approved Vendors List) থেকে বরখাস্ত করেছে
কমকাস্ট-বিজওয়াক্স (Comcast-Beeswax): মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট কমকাস্টের অধীনস্থ অ্যাড-টেক প্ল্যাটফর্মটি সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরায়েলি ওই সংস্থাকে তাদের সার্ভার থেকে ব্লক করেছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও ডেটা বিজ্ঞাপনী প্রযুক্তি বা ডেটা ব্রোকারদের মাধ্যমে হাতবদল হওয়ার ঝুঁকিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে তাদের বেশ কিছু সামরিক ডিভাইসে ট্র্যাকিং সুবিধা বন্ধ ঘোষণা করেছে
বাণিজ্যিক ডিজিটাল বিজ্ঞাপনকে অস্ত্র বানিয়ে বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তি, গণমাধ্যম ও মুক্তিকামী জনগণের ওপর ইসরায়েলের এই আড়িপাতা মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রযুক্তিগত আগ্রাসন