
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কথিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পৃথকভাবে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (১৭ ১৭ অক্টোবর) বিকেলে
প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়:
গাড়ি থেকে নেমেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাক নিজেই হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ‘এই ধর ধর ধর...’ বলে চিৎকার করতে থাকেন
তাঁর পাশ থেকে এক সহচরকে উচ্চকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব’
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত অস্ত্রধারী দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে উদ্যত হয়ে দৌড়ান
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে
একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজ হাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকা পালন করা নিয়ে শুরু থেকেই চরম প্রশ্ন দেখা দেয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের প্রণীত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা’-র ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি কেবল নিজের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র বহন করতে পারবেন
নীতিমালা ও প্রশাসনিক সুশাসন লঙ্ঘনের অভিযোগেই ঘটনার মাত্র একদিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে এই দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন
জনপ্রতিনিধি কিংবা মন্ত্রীদের আচরণে আইনি শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকা বাধ্যতামূলক। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এড়িয়ে ব্যক্তির নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অপচেষ্টা শাসনব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর; সরকারের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।