প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং
৩৯ হাজার ডলারের রাজকীয় 'পায়খানা'!

কল্পনা করুন তো, আজ থেকে বারোশ বছর পরের কোনো মানুষ আপনার ত্যাজ্য করা মল নিয়ে গবেষণা করছে, আর সেটির দাম হাঁকাচ্ছে কোটি টাকা! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও,
ঠিক এমনটাই ঘটেছে নবম শতাব্দীর এক ভাইকিং সাহেবের সাথে।
১৯৭২ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহরে লয়েডস ব্যাংকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো এক বিশালাকার বস্তু। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে তো তাজ্জব—
এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বরং আস্ত এক প্রাচীন 'পোপো' বা ফসিলাইজড মল! ৮ ইঞ্চি লম্বা আর ২ ইঞ্চি চওড়া এই দানবীয় নমুনাটি এখন পর্যন্ত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংরক্ষিত মল। ব্যাংকের নিচে পাওয়া গিয়েছিল বলে আদর করে এর নাম রাখা হয়েছে 'লয়েডস ব্যাংক কপ্রোলাইট'।
তবে এই ভাইকিং সাহেবের খাদ্যাভ্যাস মোটেও হালকা ছিল না; তিনি জমিয়ে মাংস আর রুটি খেতেন। কিন্তু হায়! তার পেটটা ছিল যেন পরজীবীদের অভয়ারণ্য। হাজার বছর আগের সেই নমুনায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন অসংখ্য হুইপওয়ার্ম আর মা-ওয়ার্মের ডিম। তার মানে, বেচারা ভাইকিং বীর হয়তো যুদ্ধের ময়দানের চেয়ে টয়লেটেই বেশি সময় কাটাতেন পেটের কামড়ে! ১৯৯১ সালে এক বিশেষজ্ঞ তো একে রাজমুকুটের হিরের সাথে তুলনা করে বসেছিলেন।
বর্তমানে ইয়র্কের মিউজিয়ামে কাঁচের বাক্সে এটি সগৌরবে রাখা আছে।
মাঝে একবার হাত থেকে পড়ে তিন টুকরো হয়ে হার্টফেল করার দশা হয়েছিল কর্তৃপক্ষের, তবে দক্ষ কারিগরের ছোঁয়ায় তা আবার জোড়া লাগানো হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, যাদুঘরটি প্রতিবছর 'পু ডে' বা 'মল দিবস' পালন করে বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয়—কখনো কখনো সামান্য বর্জ্যও ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে!
© মাটি ও জনতার কথা