
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধবিরতির বাকি সময় জুড়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ‘পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ কর্তৃক নির্ধারিত রুট বা পথ কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। উভয় নেতাই তাদের নিজ নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি পালনে সম্মত হয়েছেন।
শান্তি প্রক্রিয়ার এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বার্তায় দাবি করেছেন যে, তিনি ইতোমধ্যে বিশ্বের ৯টি যুদ্ধ বা সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রেখেছেন এবং লেবানন-ইসরায়েল শান্তি প্রচেষ্টাকে তার দশম সফল উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বিষয়টিকে নিজের জন্য অত্যন্ত গর্বের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ‘মাটি ও জনতা’র পাঠকদের জন্য এটি একটি বড় আশার খবর, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করবে।