
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন যে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিই ‘গণহত্যা’ বলে চিহ্নিত করেছিল এবং এর প্রতিবাদে দুই দিনের হরতাল ডেকেছিল। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘শহীদনামা’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারের অঙ্গীকার: মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড—সবগুলোই মানবতাবিরোধী অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
সংসদে সম্মাননা: বর্তমান জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের সকল শহিদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান ও শোকবার্তা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অন্যায় বা নৃশংসতাকে এই সরকার তামাদি হতে দেবে না।
খালেদা জিয়ার সাহসিকতা: ২০১৩ সালের ৫ মে’র প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার যখন ঈমানি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছিল, তখন জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে সেই সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, শাপলা চত্বরের ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে তৎকালীন সরকার কয়েক শ মামলা দিয়েছিল, যার ৯০ ভাগ আসামিই ছিল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মী।
জাতীয় ঐক্য: তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের রক্ত মিশে আছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তাকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার কবচ হিসেবে ধরে রাখতে হবে।
শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন:
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।