
২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) আসার পর থেকে শুরু হওয়া এআই বিপ্লব কেবল সাধারণ কর্মীদের কর্মসংস্থানই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং আমূল বদলে দিচ্ছে বড় বড় কোম্পানির নীতিনির্ধারণী পর্যায়কেও। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্পোরেট দুনিয়ায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বর্তমানে অনেক কোম্পানিই ‘চিফ এআই অফিসার’ নামের নতুন একটি জ্যেষ্ঠ পদ তৈরি করছে।
আইবিএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি সিইও’দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনকেও আমূল বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি কতটা তীব্র, তা নিচের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট:
নতুন উচ্চপদ: বর্তমানে ৭৬ শতাংশ কোম্পানি ‘চিফ এআই অফিসার’ পদ তৈরি করেছে, যা এক বছর আগেও ছিল মাত্র ২৬ শতাংশ।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্প ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এআই-এর মাধ্যমেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে।
এআই প্রযুক্তির দায়িত্ব আসলে কার ওপর থাকবে, তা নিয়ে কোম্পানির উচ্চপর্যায়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে:
দায়িত্বের বিভাজন: চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO), চিফ ইনফরমেশন অফিসার (CIO) এবং চিফ ডেটা অফিসার (CDO)—এই পদগুলোর মধ্যে এআই-এর দায়ভার নিয়ে প্রায়ই ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে।
নিয়োগের সীমাবদ্ধতা: ‘গার্টনার’-এর মতে, উচ্চপর্যায়ে এমন পদ তৈরি করা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ, তাই এটি সব কোম্পানির জন্য সাধারণ নিয়ম নাও হতে পারে।
প্রযুক্তির দাপট বাড়লেও মানবসম্পদ কর্মকর্তাদের (CHRO) গুরুত্ব কমছে না:
জটিল ব্যবস্থাপনা: ৫৯ শতাংশ মানুষের ধারণা, এআই-এর যুগে মানুষের ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠবে।
সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ: ‘২০২৬ এআই অ্যান্ড ডেটা লিডারশিপ’ জরিপ অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৯৩.২ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ‘সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ’ বড় বাধা।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা: স্বল্পমেয়াদে এআই-এর প্রভাবে শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি সবচেয়ে কম, কারণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত বা স্টেকহোল্ডার সামলানোর কাজগুলো এআই-এর হাতে ছেড়ে দেওয়া কঠিন।
গণছাঁটাই: ২০২৬ সালের হিসাব অনুসারে, এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি প্রযুক্তি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যার মধ্যে মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিও রয়েছে।
এআই এখন আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি কর্মীদের কাজ করার পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতে এই নতুন পদগুলো স্থায়ী হবে নাকি অন্য পদের সাথে মিশে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।