
কৃষি খাতে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকৌশল কাঠামো গড়ে তোলা এবং কারিগরি পদগুলোতে দক্ষ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কৃষিকৌশল বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষায়িত অধিদপ্তর: স্বাস্থ্য বা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আদলে একটি ‘কৃষি প্রকৌশলভিত্তিক বিশেষায়িত অধিদপ্তর’ গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
সমন্বয়হীনতা: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
সঠিক জনবল নিয়োগ: কারিগরি পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগের ফলে দক্ষতা ও কার্যকারিতা কমছে। তাই সঠিক স্থানে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়ন টেকসই করার ওপর জোর দেন তিনি।
সেমিনারে বক্তারা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন:
উন্নত দেশের উদাহরণ: উন্নত দেশগুলো ৯৭ শতাংশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও সময় সাশ্রয় করছে বলে জানান প্রকৌশলী শাহ্রিন ইসলাম তুহিন।
হাওর অঞ্চলের সাফল্য: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে হাওরে বোরো ধান কাটার সময় ৪২ দিন থেকে কমে মাত্র ২৩ দিনে নেমে এসেছে।
সৌরশক্তি ও সেচ: সেচ ব্যবস্থাপনায় সৌরশক্তির ব্যবহার উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত করছে।
বন্যা ব্যবস্থাপনা: ১৫ এপ্রিলের আগে বোরো ধান কাটার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাওরের বন্যার পানিকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: দেশের সব কৃষিযন্ত্রের নিবন্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ‘সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী।
পানির সুষ্ঠু ব্যবহার: সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় অপচয় রোধ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃষিকে টেকসই করতে হলে কৃষি প্রকৌশল খাতকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা অপরিহার্য।