
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি সোহেল রানা. জবানবন্দিতে মাদকাসক্ত এই ঘাতক শিশুটির ওপর চালানো পৈশাচিক নির্যাতনের রোমহর্ষক ও শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা দিয়েছে.
আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন. আদালত পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন.
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল. ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আসামিদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না. জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ঘটনার আগে সে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সেবন করেছিল.
কৌশলে অপহরণ: গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান.
পৈশাচিক নির্যাতন: এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে সোহেল রানা. তীব্র নির্যাতনে ছোট্ট রামিসা একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে.
মায়ের দরজায় কড়া নাড়া ও খুন: ঠিক ওই সময়ে রামিসার মা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন. দরজার আওয়াজ শুনে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিক বটি ও ছুরি দিয়ে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে.
জবানবন্দিতে ঘাতক জানায়, হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়. নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, শিশুটির দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়. আর খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেওয়া হয় একটি বালতির ভেতর. এই পুরো পৈশাচিক ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে উপস্থিত থেকে স্বামীকে সহযোগিতা করেন.
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার পরিবারের সদস্যরা. একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়. অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা. সেখানে ফ্ল্যাটের কক্ষে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ ও বালতিতে খণ্ডিত মাথা দেখতে পান তারা.
তখনই প্রতিবেশীরা ধাওয়া দিলে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় মূল ঘাতক সোহেল রানা. ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে. পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপির একটি চৌকস দল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়.