
নরসিংদীতে জনপ্রিয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পটে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার আমন্ত্রিত অতিথির জন্য অনুষ্ঠানস্থলে আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই অতিরিক্ত আরও কয়েক হাজার লোক অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমায়। একপর্যায়ে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে এবং বাউন্ডারি দেয়াল টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে।
মূল প্রবেশ ফটকে অতিরিক্ত মানুষের চাপ এবং ধাক্কাধাক্কির সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দর্শকদের পকেট ও ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিতে শুরু করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে শত শত পাসধারী দর্শক ও ভিআইপি অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন:
“ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে তীব্র হট্টগোল দেখা দেয়। এই সুযোগে দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক, প্রতিদিনের সংবাদ এবং আমার নিজেরসহ অন্তত সাতজন কর্মরত সাংবাদিকের মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। আমরা কাছাকাছি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারি।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনার পর আমরা প্রায় এক ঘণ্টা প্রবেশ ফটকে দায়িত্বরত পুলিশের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এই সময়ের মধ্যে আমাদের চোখের সামনেই আরও ৪০ থেকে ৪৫ জন সাধারণ দর্শক পুলিশকে তাদের মোবাইল চুরির কথা জানান। প্রকৃত চুরির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। কিন্তু পুলিশকে তখন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য নরসিংদী ও এর আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছেন। দর্শকদের পাশাপাশি হয়তো অনেক চোরও সেখানে ভিড় করেছিল। অনুষ্ঠানে বেশ কিছু দর্শকের মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”
ইত্যাদি’র মতো একটি রাষ্ট্রীয় ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের শুটিংয়ে জেলা প্রশাসনের এমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং পুলিশের ভূমিকা সত্যিই হতাশাজনক। এই চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে সাংবাদিকদের ব্যক্তিস্বার্থ ও সাধারণ মানুষের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় সচেতন মহল।