
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার তদন্তে এক বিশাল অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র ৪ দিনের মাথায় মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ (DNA), ময়নাতদন্ত (Post-mortem) ও ভিসেরা (Viscera) রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক ইউনিট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন সিআইডি কার্যালয় থেকে এই চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ এবং ময়নাতদন্তের মতো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন শতভাগ শেষ পর্যায়ে।
অভিযোগপত্র প্রস্তুত: রিপোর্টগুলো হাতে আসায় সিআইডি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করছে।
সম্ভাব্য দিন: সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলের মধ্যেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।
খোদ আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক মাসের মধ্যে খুনি সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রেকর্ড সময়ের মধ্যে (মাত্র ৫ দিনে) আজ এই চার্জশিট আদালতে জমা পড়তে যাচ্ছে।
গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
পুলিশ ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যে নরপিশাচ সোহেল রানা শিশু রামিসাকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এত দ্রুততম সময়ে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট প্রস্তুত করে চার্জশিট দেওয়ার ঘটনা বিরল। ‘মাটি ও জনতার কথা’ পরিবার আশা করে, তদন্তের এই দ্রুততা যেন বিচার পর্বেও বজায় থাকে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসার আত্মা যেন চূড়ান্ত বিচার পায়।