ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে কোয়ার্টারে মরক্কো!

নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে কোয়ার্টারে মরক্কো! ছবি: সংগৃহীত
ad728

ডাচদের টাইব্রেকার ভাগ্য যেন এক অন্তহীন ট্র্যাজেডির নাম। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, রুদ্ধশ্বাস পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) পা রাখল আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও বিশ্বমঞ্চে টিকিয়ে রাখল তাদের অদম্য স্বপ্নযাত্রা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে এ নিয়ে নিজেদের খেলা ৫টি টাইব্রেকারের ৪টিতেই হেরে বিদায় নিল ডাচরা।



মেক্সিকোর নয়নাভিরাম মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর এই ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে পুরো ম্যাচজুড়ে ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণ হেনেছিল মরক্কো। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতা এবং ডাচ গোলকিপার বার্ট ভেরব্রাখেনের অতিমানবীয় দেয়াল ভাঙতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়।

কোডি গাকপোর কান্না ও ডাচদের লিড

ম্যাচের শুরু থেকে দুই দল গতিময় ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি কেউ। বিরতির পর ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপো। সতীর্থ সামারভিলের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে জোরাল শটে ডাচদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড।

গোলের পর গাকপোর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ম্যাচের আগেই জানা গিয়েছিল, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর সঙ্গিনী তাঁদের অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন। এমন এক ভয়ানক পারিবারিক শোক পাথর চাপা দিয়ে দেশের জন্য মাঠে নেমেছিলেন গাকপো। তাঁর এই গোলটি তাই ছিল এক পরম আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

৯০ মিনিটের নাটক ও ইসা জিওপের সমতা

গোলের পর ডাচরা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে আক্রমণের ধার বাড়ায় মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা মরক্কো বিদায়ের একদম দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের (৯০+১ মিনিট) প্রথম মিনিটেই বদলি নামা তালবির নিখুঁত ক্রস থেকে ফন ডাইককে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন ইসা জিওপ। অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই ডিফেন্ডার গত মার্চেই মরক্কোর হয়ে খেলার অনুমতি পান। আর মায়ের দেশের জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি করেই মরক্কোকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান তিনি।

অতিরিক্ত সময়েও দুই দল মরিয়া হয়ে লড়লেও গোলকিপার ভেরব্রাখেনের অবিশ্বাস্য সব সেভের কারণে স্কোরলাইন ১-১ থেকে যায়। ডাচ গোলকিপার পুরো ম্যাচে একাই ৫টি নিশ্চিত গোল ঠেকান।


টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধ ও সাইবারির শেষ শট

টাইব্রেকারে দুই দলের নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে মাত্র ৫টি জালে জড়াতে পেরেছিল। নেদারল্যান্ডসের পক্ষে প্রথম শটে কুপমাইনার্স গোল করলেও, মরক্কোর প্রথম শট মিস করেন এল আয়নাউই। ডাচদের দ্বিতীয় শট পোস্টে মারেন জাস্টিন ক্লাইভার্ট এবং মরক্কোর শট ডাচ কিপারের পায়ের নিচ দিয়ে জালে জড়ায়।

পরের শটে ডাচদের বাউট বেখ্রস্ট এবং মরক্কোর শেমসদিন তালবি গোল করলে স্কোর দাঁড়ায় ২-২। চতুর্থ শটে ডাচ ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বার বল মারেন পোস্টের বাইরে, অন্যদিকে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে!

চূড়ান্ত নাটকীয়তার ক্ষণে ডাচদের শেষ শট নিতে আসেন ক্রেসেন্সিও সামারভিল। কিন্তু তাঁর দুর্বল শট বাম হাত দিয়ে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর বাজপাখি খ্যাত কিপার ইয়াসিন বোনু। ফলে শেষ শটে গোল করলেই জয়—এমন সমীকরণে প্রবল চাপের মুখে বল হাতে এগিয়ে আসেন ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ থাকা গ্রুপ পর্বের নায়ক ইসমায়েল সাইবারি। ডাচ কিপারকে বোকা বানিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়েই খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে ওঠেন সাইবারি। ৩-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কো শিবির।

ফুটবল তার আপন নিয়মেই ট্র্যাজেডি ও মহাকাব্যের জন্ম দেয়। একদিকে অনাগত সন্তানকে হারানোর আজীবন ক্ষত বুকে নিয়ে দেশের জন্য গোল করা কোডি গাকপোর সেই অশ্রুসিক্ত চোখ, অন্যদিকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের হেডে মরক্কোর রূপকথা ফিরিয়ে আনা ইসা জিওপ—মন্তেরেই স্টেডিয়াম গতকাল মানুষের সব আবেগের এক অদ্ভুত ক্যানভাস হয়ে উঠেছিল। টাইব্রেকার ডাচদের জন্য বরাবরই এক অভিশাপ, যা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ডাচ গোলকিপার ভেরব্রাখেন ম্যাচজুড়ে যে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, সতীর্থদের পেনাল্টি মিসের কারণে তা বৃথা গেল। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার বিপক্ষে মরক্কো এখন নিশ্চিতভাবেই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে।


সর্বশেষ সংবাদ
গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও পুলিশের

গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও পুলিশের