রাজধানীর বনশ্রী-মেরাদিয়া রোডের ত্রিমোহনী এলাকার প্রধান সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। সারা বছর কোনো সংস্কার উদ্যোগ না নিয়ে, ঠিক বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই অর্ধেক রাস্তা বন্ধ করে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার জনজীবন।
এবড়োখেবড়ো রাস্তা আর গর্তে জমছে পানি, নিত্যদিনের সঙ্গী দুর্ঘটনা
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কটির সিংহভাগ অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও এবড়োখেবড়ো। উঁচু-নিচু ভাঙা অংশে প্রতিনিয়ত রিকশা, সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তার ওপর বর্তমানের টানা বর্ষণে রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিদিন রিকশা উল্টে যাচ্ছে, সিএনজি বা মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ছে। ছোট-বড় এসব দুর্ঘটনায় নিয়মিত আহত হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
বর্ষাকালেই কেন উন্নয়ন কাজ? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের
চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ত্রিমোহনী এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও চালকেরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—শুকনো মৌসুমের দীর্ঘ সময় হাত গুটিয়ে বসে থেকে কেন ঠিক বর্ষাকালেই ঢাকার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে? বৃষ্টির কারণে একদিকে যেমন কাজের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে অর্ধেক রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখায় জনদুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
ঢাকার সিটি কর্পোরেশন ও সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আর বর্ষা মৌসুমে বাজেট পাসের পর রাস্তা খোঁড়ার এই পুরনো ‘বাণিজ্যিক কালচার’ নতুন বাংলাদেশেও বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ত্রিমোহনী এলাকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ককে এভাবে দীর্ঘদিন মরণফাঁদ বানিয়ে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে এই সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা উচিত। একই সাথে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং কাজের স্বার্থে রাস্তা বন্ধ রাখলে বিকল্প ট্রাফিক পাসের ব্যবস্থা করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।
স্টাফ রিপোর্টার