ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত বিল পাস, অনুপস্থিত নেতানিয়াহু

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত বিল পাস, অনুপস্থিত নেতানিয়াহু ছবি: সংগৃহীত
ad728

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ বিলুপ্ত ঘোষণা করা এবং দেশটিতে আগাম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আনা একটি প্রাথমিক বিল বিপুল ভোটে পাস হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বিলটির পক্ষে রেকর্ড ১১০ জন আইনপ্রণেতা (এমপি) ভোট দিয়েছেন এবং এর বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। তবে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকের কারণে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় নেসেট অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা ও সম্ভাব্য সময়সূচি:

এই বিলটি অনুমোদনের মাধ্যমে ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের আইনি পথ প্রশস্ত হলেও এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার আগে আরও কয়েকটি ধাপে অধিকতর পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।

  • সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা: দেশটিতে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের মে মাসে। সেই অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধান অনুসারে আগামী নির্বাচন চলতি ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

  • আগাম ভোটের সম্ভাবনা: তবে বিলটি পাসের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দলগুলোর মধ্যে দ্রুত ঐকমত্য তৈরি হলে আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে; অন্যথায় পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অক্টোবরেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

নেতানিয়াহুর ওপর থেকে কট্টরপন্থিদের আস্থা প্রত্যাহার:

নেসেট বিলুপ্তির এই নাটকীয় পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ক্ষমতাসীন জোটের কট্টরপন্থি ইহুদি দলগুলোর আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন।

  • মিত্রদের পিঠটান: ঐতিহাসিকভাবে এসব দল লিকুদ পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও চলতি মে মাসে তারা অবস্থান বদলেছে। দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নেতানিয়াহুকে তারা আর জোট শরিক বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে ইচ্ছুক নয় এবং তারা এখন সরাসরি আগাম নির্বাচনের পক্ষে।

  • জরিপের ফল: সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির ওপর থেকে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশই শুধু নয়, বরং খোদ জোটসঙ্গী দলগুলোও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কিংবা আগাম, যেভাবে-ই নির্বাচন হোক না কেন, নেতানিয়াহুর পুনরায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

কেন এখনই পতন হচ্ছে না সরকারের?

আস্থা হারানোর পরও কট্টরপন্থি দলগুলো এখনই লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন এই জোট সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহার করে বেরিয়ে যাচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো, এই মুহূর্তে সরকারের পতন হলে আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই তারা পার্লামেন্ট বিলুপ্তির মাধ্যমে সাংবিধানিক উপায়েই নির্বাচনের দিকে এগোতে চাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই রাজনৈতিক সংকট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। মিত্রদের এই পিছুটান নেতানিয়াহু যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।


বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন