ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের উৎপাদন খরচই উঠছে না, লোকসানে দিশেহারা কৃষক

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের উৎপাদন খরচই উঠছে না, লোকসানে দিশেহারা কৃষক মাটি ও জনতার কথা
ad728

বোরো ধানের মূল ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের বাজারে চরম দরপতন দেখা দিয়েছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাজারে ভালো মানের ধানও মণপ্রতি মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই সময়মতো ধান শুকাতে পারেননি। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় শুকানোর সুবিধার অভাবে অনেক ধানের রঙ কালচে হয়ে নষ্ট হয়েছে। এই অজুহাতে সেই ধান আরও কম দামে, ক্ষেত্রবিশেষে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।


বাজারদরের চরম বৈষম্য: কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

কৃষক ও বাজারের চালের মূল্যের মধ্যকার ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে এক বিশাল বৈষম্যের চিত্র ফুটে ওঠে:

  • ধানের দাম: কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কেনা হচ্ছে ৮০০–১,০০০ টাকায়।

  • চালের খুচরা বাজার: বাজারে নিম্নমানের চালের দামও প্রতি কেজি প্রায় ৬০ টাকা।

  • হিসাবের তফাত: সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, এক মণ ধান থেকে গড়ে ২৫ কেজি চাল পাওয়া গেলে খুচরা চালের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০ টাকা। অথচ এর অর্ধেক বা তার সামান্য বেশি দামে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচা ধান হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

                ধান ও চালের দামের তুলনামূলক চিত্র
┌─────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ 🌾 কৃষকের বিক্রয়মূল্য (১ মণ ধান): ৮০০ – ১,০০০ টাকা           │
│ 🍚 চালের বাজারমূল্য (১ মণ ধান সমপরিমাণ/২৫ কেজি): ~১,৫০০ টাকা│
│ ⚠️ মূল্যের বৈষম্য: প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার ব্যবধান         │
└─────────────────────────────────────────────────────────────┘


ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাব

কৃষকদের অভিযোগ, হাওরাঞ্চলে সরাসরি ধান কেনার বিকল্প বা পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি ক্রেতা না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে যে দর নির্ধারণ করে দিচ্ছেন, বাধ্য হয়ে সেই দামে ধান ছাড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

বাজার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন বা খাদ্য দপ্তরের কার্যকর কোনো মনিটরিং না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের দাপট দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার জন্য সরকারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকেরা।

হাওরের কৃষকেরা বছরের পর বছর কষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, কৃষকদের এই লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে কেবল চাল নয়, সরাসরি ধান ক্রয় অভিযান দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর তদারকি জরুরি।


সর্বশেষ সংবাদ
যুবদের দক্ষ করে তোলাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

যুবদের দক্ষ করে তোলাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার