ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আটককেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আটককেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ ছবি: সংগৃহীত
ad728

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটকে রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘আটককেন্দ্র’ বা ডিটেনশন সেন্টার (Detention Center) স্থাপনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলা এসব বিশেষ কেন্দ্রে মূলত বাংলাদেশি নাগরিক কিংবা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।



বিজ্ঞপ্তির মূল নির্দেশনা: সর্বোচ্চ ৩০ দিন আটক

সরকারি নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত এসব নবনির্মিত জেলা আটক কেন্দ্রে রাখা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আটককেন্দ্রের আওতাধীন ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে:

  • নতুন আটক: সম্প্রতি সীমান্ত বা রাজ্যের অভ্যন্তর থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হওয়া ব্যক্তিরা।

  • সাজাভোগকারী: অতীতে বিভিন্ন মেয়াদে ভারতের জেলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের মেয়াদ শেষ করা ব্যক্তিরা।

  • প্রত্যাবাসনপ্রার্থী: যাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ এবং বর্তমানে নিজ দেশে পুশব্যাক বা ‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া’ (Repatriation) চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের সাময়িকভাবে নজরদারিতে রাখতেই জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই বিশেষ আটককেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনেক আগেই দেশজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল। এ বিষয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “আগের রাজ্য প্রশাসন কেন্দ্রের পাঠানো এই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কার্যকর করেনি।”

তিনি আরও জানান:

“বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা শুরু হয়েছে। যেসব ব্যক্তি বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা ‘সিএএ’ (CAA)-এর আইনি আওতার মধ্যে পড়বেন না বা ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের দ্রুততম সময়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।”


নতুন এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে, জেলা আটককেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই সরাসরি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে বিএসএফ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ফ্ল্যাগ মিটিং বা সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে হুট করে এই ডিটেনশন সেন্টার স্থাপনের সরকারি নির্দেশ বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য একটি বড় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা। বিএসএফ যদি একতরফাভাবে ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ পুশব্যাক বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে, তবে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির (BGB) কড়া নজরদারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন।


সর্বশেষ সংবাদ
ঈদে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, ছিনতাই-ডাকাতি রুখতে র‌্যাব বিশ

ঈদে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, ছিনতাই-ডাকাতি রুখতে র‌্যাব বিশ