ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সঠিক কথা’র রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সঠিক কথা’র রাজনীতি। ছবি: সংগৃহীত
ad728

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬ সালের এপ্রিল অধিবেশনটি ছিল ২৫ কার্যদিবসের এক দীর্ঘ পথচলা। ৩০ এপ্রিল সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়; বরং আগামীর বাংলাদেশের এক নতুন রাজনৈতিক দর্শন।


​সংসদীয় গণতন্ত্রে আমরা সাধারণত দেখি, রাজনীতির মাঠে বা সংসদের ফ্লোরে এমন সব কথা বলা হয় যা মানুষের আবেগ ও তাৎক্ষণিক আকুলতাকে পুঁজি করে সাজানো। একে রাজনৈতিক পরিভাষায় বলা হয় ‘পপুলিস্ট রেটরিক’ বা জনপ্রিয়তাবাদ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সস্তা জনপ্রিয়তাকে সরাসরি ‘না’ বলে এক ধ্রুপদী সত্য উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন—

​“আমি চাইলে এই সংসদে এমন অনেক জনপ্রিয় বা মুখরোচক কথা বলতে পারব, যে কথা শুনে প্রচুর তালি হবে; কিন্তু দেখা গেল সেসব কথা যতটা পপুলার ততটা সঠিক নয়। আমি আসলে সেসব পপুলার কথা বলতে চাই না; আমি চাই সঠিক কথা বলতে। সে কথার জনপ্রিয়তা না থাক, অন্তত সঠিক কথাটা নিয়ে সেসব বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের উন্নয়ন হোক।”

​এই একটি বাক্যই রাষ্ট্র পরিচালনার গভীরে লুকিয়ে থাকা এক সাহসী অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। জনপ্রিয় কথা বা ‘পপুলার টক’ সাময়িক আরাম দেয় ঠিকই, কিন্তু টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। এটি অনেকটা পেইনকিলারের মতো, যা তাৎক্ষণিক ব্যথা কমায় কিন্তু রোগ নিরাময় করে না। অন্যদিকে ‘সঠিক কথা’ অনেক সময় রূঢ় হয়, সাধারণের কানে কর্কশ শোনায়, কিন্তু একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য এটিই অনিবার্য।


​ইতিহাস সাক্ষী, যেসব রাষ্ট্রনায়ক জনপ্রিয়তার মোহে না পড়ে সঠিক পথের পথিক হয়েছেন, তারাই জাতি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। ১৯৪০ সালে উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ জনতাকে সস্তা স্বপ্ন না দেখিয়ে ‘রক্ত, শ্রম ও ঘাম’ দেওয়ার কঠিন সত্য বলেছিলেন বলেই ব্রিটেন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সিঙ্গাপুরের রূপকার লি কুয়ান ইউ কিংবা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার—তারাও অজনপ্রিয় কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নিজেদের দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করেছিলেন।

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সেই আধুনিক সংসদীয় সংস্কৃতিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি সংসদকে কেবল ‘তালি’ পাওয়ার জায়গা নয়, বরং জনগণের সত্যিকারের সমস্যা সমাধানের মঞ্চ হিসেবে দেখতে চান। মুদ্রাস্ফীতির চাপে ‘সবকিছুর দাম অর্ধেক করে দেব’—এমন অলীক আশ্বাসের চেয়ে ‘উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃচ্ছ্রসাধনের’ মাধ্যমে অর্থনীতি পুনর্গঠনের সত্য অনেক বেশি জরুরি।


​জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে ৫ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য জিডিপি বরাদ্দের যে পরিকল্পনা তিনি পেশ করেছেন, তা-ও এই ‘ফলাফলের রাজনীতি’রই অংশ।

​জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সত্য চিরন্তন। আগামীর বাংলাদেশ হবে তথ্যের, যুক্তির এবং টেকসই উন্নয়নের। এখানে চটকদার হেডলাইন নয়, বরং গুরুত্ব পাবে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। সঠিক কথাটি সবসময় জনপ্রিয় হয় না, কিন্তু সঠিক কথাটিই দেশকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যায়। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই দর্শনটিই হোক আগামীর পাথেয়।


​লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, মাটি ও জনতার কথা।


সর্বশেষ সংবাদ
এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে,  সেতুমন্ত্রী

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে, সেতুমন্ত্রী