ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত ছবি: সংগৃহীত
ad728

সম্প্রতি নানা দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তৈরি হওয়া তীব্র টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আভাস দিয়েছে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G7) সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই ভারত সফরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। দুই নেতার এই সফল বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লেস-বেইন্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, ভবিষ্যতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে তিনি অবশ্যই ভারত সফর করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


গত বছর মার্কিন বাজারে বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প অতিরিক্ত কর বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছিল। এই কর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও দিল্লির সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে একধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বাণিজ্যিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হলে পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওমান উপসাগরের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় নাবিক ও নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন।


বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করলেও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ঠেকানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি কর পরিকল্পনার কারণে আলোচনায় কিছুটা বাধা তৈরি হয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদিকে একজন ‘কঠিন আলোচক’ (Tough Negotiator) হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভারতে যাওয়ার জন্য তাঁর তীব্র আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন。

একই সাথে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করে বলেন, ভারত কখনো বহিরাগত শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে। মোদির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন:

“যদি কেউ ওই মানুষটিকে (মোদিকে) আক্রমণ করে, তবে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) শক্তভাবে তাদের পাশে থাকব।”

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এলে এই প্রতিরক্ষা সমীকরণ কেমন হবে, তা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


এই জি-৭ বৈঠকের আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে করা কিছু মন্তব্যে দিল্লির সাউথ ব্লক তীব্র অসন্তুষ্ট হয়েছিল। ভারত শুরু থেকেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কাশ্মীর সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের (Third Party) হস্তক্ষেপ বা মধ্যস্থতা তারা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।

পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ এবং ওমান উপসাগরসহ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে। ভারত তার দেশের প্রয়োজনীয় মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরেন।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্প ও মোদির এই বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মোড় বা ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের আগের বিতর্কিত মন্তব্য দুই দেশের বন্ধুত্বে যে দূরত্ব তৈরি করেছিল, তা এই বৈঠকের মাধ্যমে অনেকটাই ঘুচে গেল। আগামী সপ্তাহেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে আরও একটি নীতিগত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দিল্লির সেই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।


কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয়

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয়