ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিশ্বজয়ের পর সিজদায় ও প্রার্থনায় কৃতজ্ঞতা: লামিনে ইয়ামালের

বিশ্বজয়ের পর সিজদায় ও প্রার্থনায় কৃতজ্ঞতা: লামিনে ইয়ামালের ছবি: সংগৃহীত
ad728

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন চারদিকে স্প্যানিশ সতীর্থদের বিশ্বজয়ের উল্লাস ও আতশবাজির গর্জন, ঠিক তখনই মাঠের সবুজ ঘাসে এক ভিন্ন ও পরম আবেগঘন দৃশ্যের জন্ম দিলেন স্পেনের তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ট্রফি উঁচিয়ে উদযাপনের কোলাহলের মাঝেও তিনি মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে স্রষ্টার প্রতি প্রকাশ করলেন নিভৃত গভীর কৃতজ্ঞতা।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বজয়ী এই স্প্যানিশ তারকাকে মাঠে একা নীরবে বসে পড়তে দেখা যায়। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে দুই হাত তুলে একমনে প্রার্থনা করেন তিনি। প্রার্থনা শেষে দুই হাতে মুখ ঢেকে দীর্ঘক্ষণ নিশ্চুপ বসে থাকেন ইয়ামাল। তার সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে যেন মিশে ছিল বিশ্বকাপ জয়ের সীমাহীন আনন্দ, বিশ্বসেরা হওয়ার দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি এবং ভেতরে চেপে রাখা সব আবেগের যৌথ প্রতিফলন।


মাঠে সিজদা ও রোজার স্মৃতি: নিয়মিত ধর্মীয় আচারের প্রতিফলন

পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ততায় ইয়ামালকে নিয়মিত প্রকাশ্য ধর্মীয় আচার পালন করতে খুব বেশি দেখা না গেলেও, যেকোনো বড় সাফল্য ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্রষ্টাকে স্মরণ করার অভ্যাসে তিনি বরাবরই অটল। চলতি বিশ্বকাপেই সৌদি আরবের বিপক্ষে চোখধাঁধানো গোল করার পর মাঠেই সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন তিনি। এবার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন—বিশ্বকাপ জয়ের পরও সেই সিজদা ও দোয়ার ধারাই বজায় রাখলেন এই তারকা।

ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাসের বিষয়ে ইয়ামাল আগেও একাধিকবার বিশ্ব মিডিয়ায় ইতিবাচক আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২৫ সালের পবিত্র রমজান মাসে বার্সেলোনার হয়ে বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রোজা রেখেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। রোজা রাখা অবস্থাতেই সেই ম্যাচে দারুণ একটি অ্যাসিস্ট করেন এবং ইফতারের পর প্রথমার্ধেই একটি দর্শনীয় গোল উপহার দেন। তার এই নিষ্ঠার কারণে বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ পুরো রমজানজুড়ে ইয়ামালের জন্য বিশেষ ডায়েট ও অনুশীলনের সুব্যবস্থা রেখেছিল।


ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সমর্থন

শুধু মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্স নয়, নিজের স্পষ্ট সামাজিক ও মানবিক অবস্থানের কারণেও ফুটবল বিশ্বের মন জয় করেছেন ইয়ামাল। গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময় ছাদখোলা বাসে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার পরদিন বার্সেলোনার রাস্তায় লাখো সমর্থকের সামনে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি সেই ঐতিহাসিক সংহতি প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ইয়ামালের সেই সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে স্পেনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ামালের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করলেও, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে ইয়ামালের পাশে এসে দাঁড়ান। সানচেজ স্প্যানিশ গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, "একটি নির্যাতিত দেশের পতাকা বহন করে মানবিক সহমর্মিতা প্রকাশ করাকে কখনো ঘৃণা ছড়ানোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।"


ইতিহাসের পাতায় বিশ্বজয়ের নায়ক

নিজের মেধা ও নৈপুণ্যে এবারের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক হিসেবে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখিয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। আর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের ঐতিহাসিক ক্ষণে হইচই আর উন্মাদনার বদলে মাঠের ঘাসে বসে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ক্রীড়াবিশ্বকে উপহার দিলেন এক চিরস্মরণীয় ও মানবিক মুহূর্ত।

১০০০ কোটিরও বেশি মানুষের চোখে চোখ রেখে বিশ্বজয়ের মুহূর্তে সব অহংকার ভুলে স্রষ্টার সামনে মাথা নত করার দৃশ্যটি কেবল একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্য নয়, এটি বিনয় ও আত্মিক চেতনার এক অসাধারণ বার্তা। ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে সরাসরি দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সিজদায় নিজের বিশ্বাসকে ধারণ করা—লামিনে ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল একজন দক্ষ ফুটবলারই নন, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য এক সাহসী মানবিক রোল মডেল।


সর্বশেষ সংবাদ
রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি

রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি