বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি (BJP) সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলন এবং সেখানে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কংগ্রেসের নারী নেত্রী ও কর্মীরা। বিতর্কিত এই বক্তব্যের জন্য বিজেপি সাংসদ কঙ্গনাকে প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের লখনউয়ের মল অ্যাভিনিউ মোড়ে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মহিলা শাখার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
কঙ্গনার কুশপুতুল দাহ ও পুলিশের সাথে টানাপোড়েন
বিক্ষোভকালে আন্দোলনকারী নারী নেত্রীরা কঙ্গনা রানাউতের কুশপুতুল দাহ করেন। তাদের অভিযোগ, কঙ্গনার দেওয়া বক্তব্য কেবল যন্তর-মন্তরের আন্দোলনকারী নারীদের নয়, বরং সমগ্র ভারতের নারীদের সম্মান ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভের এক ভিডিওতে দেখা যায়, কুশপুতুলে আগুন দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে উপস্থিত হয়। অর্ধেক পুড়ে যাওয়া কুশপুতুলটি পুলিশ সদস্যরা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এক নারী বিক্ষোভকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার পেছনে ধাওয়া করেন, যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক চর্চা চলছে।
‘নারীদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন সহ্য করা হবে না’ — কংগ্রেস নেত্রীদের হুঙ্কার
প্রতিবাদকারীদের মতে, নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে যুক্ত থাকা নারীদের চরিত্র ও ভূমিকা নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্য অত্যন্ত অসম্মানজনক ও আপত্তিকর।
বিক্ষোভ সমাবেশে কংগ্রেসের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করে বলেন:
"বিজেপি মুখে নারী সংরক্ষণ ও নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ। একজন দলীয় সংসদ সদস্য আন্দোলনকারী নারীদের এভাবে অপমান করার পরও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নিরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।"
কংগ্রেস নেত্রীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কঙ্গনা রানাউত ভারতের নারীদের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের আন্দোলন ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। এই কর্মসূচিতে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস কমিটির অসংখ্য নারী পদাধিকারীসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
রূপালী পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা কঙ্গনা রানাউত তাঁর বিভিন্ন বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্য বারবার শিরোনামে এসেছেন। তবে গণসংগ্রাম ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, সাধারণ নারীদের অনুভূতিতেও আঘাত হানে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থেকে যেকোনো ধরনের সংবেদনশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সব পক্ষকেই সংযম ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক