ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ফুটপাতে রঙিন শরবতের রমরমা ব্যবসা: ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

ফুটপাতে রঙিন শরবতের রমরমা ব্যবসা: ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিজস্ব ফটোগ্রাফার- মাটি ও জনতার কথা
ad728
ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ: 

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। গরমের এই চরম আগ্রাসনে যখন সাধারণ পথচারী ও শহরবাসী নাকাল, তখন ফুটপাত থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে জমে উঠেছে বাহারি ফলের শরবত ও জুসের রমরমা ব্যবসা। তীব্র গরমে একটু স্বস্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে পথচারীরা দেদারছে পান করছেন এসব ঠাণ্ডা শরবত। বরফ ঠাণ্ডা পানি, তোকমা দানা, ইসবগুলের ভুসি আর ড্রাগন ফল, আপেল, আঙুর, কলাসহ নানাপদের মুখরোচক ফলের টুকরো দিয়ে সাজানো এই শরবতগুলো দেখতে ভীষণ চমৎকার ও কালারফুল। তবে বাইরে থেকে দেখতে যতটা লোভনীয়, এই রঙিন পানীয়র আড়ালে যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুফাঁদ লুকিয়ে আছে, তা জানছেন না অধিকাংশ ক্রেতাই।
​সরেজমিনে বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকা, বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, ছোট-ছোট কাঁচের গ্লাসে বাহারি ফলের টুকরো স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তীব্র রোদে তৃষ্ণার্ত মানুষ দেখলেই বিক্রেতারা চটজলদি তাতে ঠাণ্ডা পানি ও কৃত্রিম রং-ফ্লেভার মিশিয়ে পরিবেশন করছেন। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানারকম অসংগতি।

​ব্যস্ততম ও ধুলোবালি ভরা খোলা রাস্তার ঠিক পাশেই কোনো ঢাকনা ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে এই ব্যবসা। সড়কের যানবাহনের কালো ধোঁয়া, চারপাশের উড়ন্ত ধুলোবালি এবং ক্ষতিকর অসংখ্য জীবাণু অনায়াসে এসে জমা হচ্ছে খোলা এই শরবতের গ্লাসে ও কেটে রাখা ফলের ওপর। বিক্রেতারা হাত না ধুয়ে বা কোনো হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার না করেই খালি হাতে ফল কাটছেন এবং শরবত তৈরি করছেন।
​দূষিত পানি ও বাণিজ্যিক বরফের ব্যবহার
​অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই শরবত তৈরিতে যে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই অনিরাপদ এবং সরবরাহ লাইনের দূষিত পানি। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো শরবত ঠাণ্ডা করার জন্য ব্যবহৃত বরফ। মাছ সংরক্ষণ বা শিল্প-কারখানায় ব্যবহারের জন্য উৎপাদিত বাণিজ্যিক নোংরা বরফ ভাঙা হচ্ছে ফুটপাতে নোংরা চটের বস্তার ওপর রেখে। সেই বিষাক্ত বরফই মেশানো হচ্ছে মানুষের পানের গ্লাসে।


​ফুটপাতের এই দোকানগুলোতে পানি সরবরাহের স্থায়ী বা সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা থাকে না। একটিমাত্র বালতিতে রাখা নোংরা ও একই পানি দিয়ে বারবার শত শত কাস্টমারের ব্যবহৃত গ্লাস ধোয়া হচ্ছে। এর ফলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির জীবাণু খুব সহজেই গ্লাসের মাধ্যমে অন্য সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

​শরবতের আকর্ষণ বাড়াতে ফলের প্রাকৃতিক রঙের চেয়ে কাপড়ে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া চিনির দাম বাড়তি থাকায় অনেক বিক্রেতাই চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন ঘনচিনি বা ক্ষতিকর স্যাকারিন, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি শরবত ও জুস পান করার কারণে মানুষ সাময়িক তৃপ্তি পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, টাইফয়েড ও পেটের পীড়াসহ মারাত্মক গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে এই রাসায়নিক ও দূষিত পানি পানের ফলে লিভার এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো বড় ধরনের রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
​তীব্র গরমে চিকিৎসকরা ফুটপাতের এসব খোলা ও নোংরা পানীয় পরিহার করে সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানি রাখার অথবা বাড়িতে তৈরি লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফুটপাতের এসব অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর শরবতের দোকানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করল ইরান