দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই, জোরালো ও কার্যকর সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিসিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকল্পে জাতিসংঘের সরাসরি ও জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব শান্তিরক্ষা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং বর্তমান সরকারের কৌশলগত অবস্থানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশাল এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘকালীন অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো তাদের দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া।
বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা
বৈঠকে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লো বিশ্বমঞ্চে ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের গঠনমূলক, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক শান্তি, সংঘাত নিরসন ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়—বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব ও অব্যাহত অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের এই প্রথম জাতিসংঘ সফর এবং রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে পুনরুত্থাপন করা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ ও জান্তা সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে হিমাগারে পড়ে আছে। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, শুধু মুখের কথায় বা প্রথাগত আশ্বাসে এই সংকটের সমাধান হবে না; জাতিসংঘকে মিয়ানমার সরকারের ওপর এমন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে যেন তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক তহবিল কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর যে মানবিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই মুহূর্তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও বাস্তবসম্মত সহায়তা প্রয়োজন।
বিশেষ সংবাদদাতা