ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ভাবুন দেশের জন্য কী করতে পারেন” -মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভাবুন দেশের জন্য কী করতে পারেন” -মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাটি ও জনতার কথা রিপোর্ট
ad728

প্রবাসীদের নিজেদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত দাবি-দাওয়া বাদ দিয়ে মাতৃভূমির জন্য এই মুহূর্তে কী করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকে আমাদের কি দাবি আছে, সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন। আমরা চিন্তা করি, আমাদের কি কর্তব্য আছে দেশের প্রতি। ‘হোয়াট উই ক্যান ডু ফর কান্ট্রি’ (আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি)।”

বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

এর আগে, আজ স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল ‘বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী হানানি হারুন। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা (রেড কার্পেট) দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে এবং অনুষ্ঠানস্থলে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত সাড়ে ৯টায় সরকারপ্রধানকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত ‘সাংরি-লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

 “বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে”

হোটেলের লবি ও কনফারেন্স রুমে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানকে সাথে নিয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বিগত দেড় দশকে ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনে দেশের বিপর্যস্ত চিত্র প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“দেখুন দেশ থেকে কেউ একজন, একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে আজকে, দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। কিছু করার ছিল না, আমরা চেষ্টা করেছি; দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে আজকে দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এখন আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কি করতে পারি… এটিতে আমরা থাকি। প্রিয় প্রবাসী ভাই-বোনেরা, আপনাদের সকলের কাছে দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি কথা রাখব—আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কি করতে পারি দেশের জন্য? এটাই হোক আমাদের আজকের মূল চিন্তা।”

দেশ গঠনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ পরিকল্পনা

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং দেশ গঠনে নিজের সুনির্দিষ্ট চিন্তা ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বিএনপির নির্বাচনি প্রধান অঙ্গীকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ এবং দেশের জলাশয় ও কৃষি সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে ‘খাল পুনঃখনন’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। আপনারা যদি মনে করেন যে এইভাবে আমরা এগোতে পারবো দেশকে নিয়ে, যারা এই কথাগুলো বিশ্বাস করবেন—তারা সকলে দোয়া করবেন, যাতে এগুলার বাস্তবায়ন আমরা সফলভাবে করতে পারি।”

প্রবাসীরা হলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। স্বৈরাচার মুক্ত নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে প্রবাসীদের মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগ এখন দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স প্রেরক হিসেবে না দেখে, দেশ গড়ার সরাসরি অংশীদার হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন—তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমুখী রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য দ্রুত পরিবর্তন হবে বলে ‘মাটি ও জনতার কথা’ আশা প্রকাশ করে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প:

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: