ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

‘বি’ গ্রুপের প্রথম খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করলো কানাডা ও বসনিয়াল

‘বি’ গ্রুপের প্রথম খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করলো কানাডা ও বসনিয়াল ছবি: সংগৃহীত
ad728
বিশকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করলো কানাডা। একই সাথে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়ীত তাদের জন্য।  
১৯৮৬ ও ২০২২ সালের পর নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপে জয়ের অপেক্ষা বাড়ল কানাডার। বিশ্বকাপ খেলা ছয়টি ম্যাচের সবকটিতেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়া কানাডা ড্র করে প্রথম পয়েন্ট জেতার মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেও, জয়ের স্বাদ পেতে তাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।


টরন্টো স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের স্বাগতিক কানাডা আজ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে ১-১ গোলে ড্র করেছে। ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপ খেলা দলটির হয়ে  গোল করেন জোভো লুকিচ। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার জন্য দারুণ মুহূর্তই যেন বেছে নিলেন এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে কানাডার হয়ে সমতাসূচক গোল করেন কাইল লারিন।

নিজেদের মূল তারকা এবং বায়ার্ন মিউনিখের প্রাণভোমরা আলফনসো ডেভিসকে ছাড়াই উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে নামে কানাডা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে তাঁর না থাকা অনুমেয়ই ছিল। ডেভিসের অনুপস্থিতিতে কানাডার আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব পড়ে জুভেন্টাস স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিডের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সহ-আয়োজক দলটির ত্রাতা হতে পারেননি কেউই।



ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ ধাপ এগিয়ে থাকা বসনিয়ার বিপক্ষে বল দখল আর শট নেওয়ায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল কানাডা। ম্যাচে মোট ৬০ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শট নেয় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা, লক্ষ্যে ছিল চারটি। বিপরীতে ৮টি শট নিয়ে তিনটি গোলমুখে রাখে বসনিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকে কানাডা বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও একটি চমৎকার কর্নার কিক থেকে গোল করে বসনিয়াকে লিড এনে দেন লুকিচ। ম্যাচের ধারার বিপরীতে ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। ডানদিকে বাজিরাতারিভিচের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কানাডার ফুলব্যাক লারিয়া কর্নার উপহার দেন। মেমিচের নেওয়া সেই চমৎকার কর্নার কিকটি কোলাশিনাচের মাথায় লেগে চলে আসে লুকিচের কাছে, আর একদম গোললাইন থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

প্রথামার্ধের প্রায় পুরোটা সময়ই জেসি মার্শের কানাডাই বল নিয়ন্ত্রণে এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল। তবে তারা মোট আটটি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র একটি। বিপরীতে ২১ মিনিটের গোলটির বাইরেও খুব বড় কোনো সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি বসনিয়া। 

বিরতির পর আক্রমণের বেগ আরও বাড়ায় কানাডা। ম্যাচে ফেরার জন্য কোচ জেসি মার্শ যে বদলি খেলোয়াড়ের ওপর ভরসা রেখেছিলেন, সেই কাইল লারিন যেন মাঠে নেমেই জাদু দেখান! বদলি নামার দুই মিনিট পরই এই স্ট্রাইকার ম্যাচের চিত্র মুহূর্তেই বদলে দেন। মিডফিল্ডার কনের দুর্দান্ত এক দৌড় থেকে আক্রমণটির সূচনা, এরপর জনাথন ডেভিডের নিখুঁত এক পাস খুঁজে নেয় লারিনকে। বসনিয়ার ডিফেন্ডারকে শারীরিক শক্তিতে পরাস্ত করে লারিনের নেওয়া শট ডিফেন্ডার কাটিচের গায়ে লেগে সামান্য দিক পরিবর্তন করে জড়িয়ে যায় জালে।

সমতায় ফেরার পর কানাডার গ্যালারি যেন জেগে উঠে নতুন প্রাণশক্তিতে! স্বাগতিক দর্শকদের গর্জনে এখন পুরো স্টেডিয়ামই কেঁপে ওঠে। জয়সূচক গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে কানাডা। ৭ মিনিটের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দারুণ এক সুযোগও এসে যায়। বাঁ দিক থেকে ফুলব্যাক লারিয়া দুর্দান্তভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লেন। এরপর তিনি নিখুঁতভাবে বলটি বাড়ালেন লারিনের উদ্দেশ্যে। লারিন শট নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুতও করেছিলেন, কিন্তু বসনিয়ার ডিফেন্ডার মুহারেভিক যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন! অবিশ্বাস্য এক ব্লকে  লারিনের নিশ্চিত গোলটি আটকে দিলেন তিনি।

গ্যালারিতে কানাডার সমর্থকদের দীর্ঘশ্বাস আর মুহারেভিকের সেই বীরত্বপূর্ণ ডিফেন্স—ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুই দলকে।
বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে  অপর দুই দল কাতার ও সুইজারল্যান্ড। আগামী ১৯ জুন ভোর চারটায় কাতারের মুখোমুখি হবে কানাডা। আর ১৮ জুন রাত একটায় বসনিয়া মাঠে নামবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।