নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুটের গোডাউনে (গুদাম) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতায় অন্তত ৬ থেকে ৭টি জুটের গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল ও কাপড়ের টুকরো পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার কর অফিসের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘মাসুমের গোডাউন’ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টা
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টায় জুটের গুদামে আগুন লাগার পরপরই তা দ্রুত চারদিকের অন্যান্য গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার অবিরাম চেষ্টার পর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘক্ষণ পোড়া জুটের স্তূপ থেকে অল্প অল্প ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
পাশের কাঠের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত
আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, জুটের গুদামগুলোর পাশাপাশি সংলগ্ন একটি কাঠের দোকানের একপাশের টিন এবং ভেতরে থাকা বেশ কিছু কাঠও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া সবগুলো জুটের গোডাউনের তৈরি পোশাকের টুকরো ও জুট সামগ্রী পুড়ে শতভাগ লোকসান হয়েছে মালিকদের।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফতুল্লা থানা পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডস্থলসহ আশেপাশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অনিশ্চিত
ফায়ার সার্ভিস এবং ফতুল্লা থানা পুলিশ যৌথভাবে জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া মালামালের সঠিক পরিমাণ এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। গুদাম মালিকদের সাথে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব বের করার কাজ চলছে।
নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা অঞ্চলের জুটের গোডাউনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড এখন এক নিয়মিত ও আশঙ্কাজনক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং ঘিঞ্জি এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব গুদামে ফায়ার সেফটি বা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার বালাই থাকে না বললেই চলে। বৈদ্যুতিক তারের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং অসচেতনতাই এই কোটি টাকার ক্ষতির মূল কারণ। ফতুল্লার এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের উচিত প্রতিটি বাণিজ্যিক ও জুটের গুদামে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার আছে কি না, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা।
নিজস্ব প্রতিনিধি: