ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিপজ্জনক যুগে পৃথিবী’: শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কড়া হুঁশিয়ারি

বিপজ্জনক যুগে পৃথিবী’: শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কড়া হুঁশিয়ারি ছবি: সংগৃহীত
ad728

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঘনঘটা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন—প্রশান্ত মহাসাগরের ‘এল নিনো’ (El Niño) প্রক্রিয়ার প্রভাবে পৃথিবী এখন চরম আবহাওয়ার এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক যুগে প্রবেশ করেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, চলমান এই এল নিনো গত সাত দশকের (৭০ বছর) ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক রূপ নিতে পারে, যার তীব্র প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


‘অজানা ও উত্তপ্ত সীমানায় পৃথিবী’: গুতেরেসের বক্তব্য

পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক দিক তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন:

"আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো অস্বাভাবিক ও অতিমাত্রায় প্রলয়ংকরী আকার ধারণ করছে। জলবায়ুর বিজ্ঞান নিয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই; পৃথিবী এখন চরম জলবায়ুর এক অজানা ও উত্তপ্ত সীমানায় পা রেখেছে।"

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মহাসচিব সেলেস্তে সাউলোও এ বিষয়ে সতর্ক করে জানান, এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।


এল নিনো কী এবং কেন তৈরি হচ্ছে তীব্র সংকট?

এল নিনো মূলত মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। পানির এই চরম উত্তাপের ফলে বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের নকশা পুরোপুরি তছনছ হয়ে যায়।

                 এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব
┌─────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ☀️ তীব্র খরা ও তাপপ্রবাহ: বিশ্বের এক অঞ্চলে খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি   │
│ 🌊 বিধ্বংসী বন্যা ও টাইফুন: অন্য প্রান্তে প্রলয়ংকরী ঝড় ও প্লাবন      │
│ 📈 তাপমাত্রা বৃদ্ধি: মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের সাথে এল নিনোর যোগসাজশ   │
│ ⏳ স্থায়ীত্বকাল: ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা     │
└─────────────────────────────────────────────────────────────┘


ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি

এল নিনোর আঘাতের কারণে হতে যাওয়া বিপুল প্রাণহানি, গণ-বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে বিশ্বজুড়ে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (Early Warning System) জোরদার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দেওয়া ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখতে বিভিন্ন দেশ বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে।

উন্নত ও উন্নয়নশীল—সকল দেশের জন্যই শক্তিশালী এল নিনোর এই ধাক্কা সামলানো বড় চ্যালেঞ্জের। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, জলবায়ুর এই মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় কেবল আগাম বার্তাই যথেষ্ট নয়; প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশসহ দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে দ্রুত সহায়তা ছাড় নিশ্চিত করা জরুরি।


রামিসার হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে

রামিসার হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে