ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পূর্ববিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে থেমে থেমে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের নেপথ্যে পূর্ববিরোধ ও মারধর
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা শিশু মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার দলের মধ্যকার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে ইতিপূর্বেও একাধিকবার উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়।
সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে:
মারধরের ঘটনা: বিটঘর বাজার থেকে টিয়ারা গ্রামে ফেরার পথে আবুল হোসেনের তিন সমর্থককে পথরোধ করে বেদম মারপিট করে শিশু মিয়ার লোকজন।
দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা: এই মারধরের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের শত শত সমর্থক লাঠিচোঁটা, টেঁটা, রামদা ও ঢালসহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ভাঙচুর ও লুটপাট: চার ঘণ্টাব্যাপী চলে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও গ্রামের বর্তমান অবস্থা
ঘটনার খবর পেয়ে নবীনগর থানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে টিয়ার গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. এম. রকীব উর রাজা জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে টিয়ারা গ্রামের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুনরায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তুচ্ছ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ পর্যায়ে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ঘরবাড়িতে লুটপাটের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর হতে হবে। কেবল সংঘর্ষ থামানো নয়, বরং এই ঘটনার পেছনে থাকা মূল উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
জেলা প্রতিনিধি